রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বিজয়ার সৌজন্য! যানজটে আটকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সাহায্যে এগিয়ে এলেন কুণাল ঘোষ
মুখোমুখি হয়ে দু’জনের মধ্যে হল বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ও
Truth of Bengal: রাজনীতির ময়দানে মতাদর্শের লড়াই থাকলেও সৌজন্যের জায়গা যে এখনও অটুট, বিজয়া দশমীর রাতে তারই নজির দেখল কলকাতা। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় যানজটে আটকে পড়েছিল বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গাড়ি। আর সেই গাড়িকে যানজট থেকে বের করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুধু তাই নয়, মুখোমুখি হয়ে দু’জনের মধ্যে হল বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ও। উৎসবের আবহে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের জনপ্রতিনিধির এই সৌজন্য ঘিরেই শুরু হয়েছে চর্চা। ঘটনাটি শুক্রবার রাতে শিয়ালদহ লাগোয়া রাজা রামমোহন রায় রোডের। বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাস্তায় তখন প্রচুর ভিড়। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু যানজটে আটকে যায় তাঁর গাড়ি। বিষয়টি নজরে আসতেই এগিয়ে আসেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
বিসর্জনের শোভাযাত্রার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সাংসদের গাড়ি বেরনোর ব্যবস্থা করেন কুণাল। প্রতিমা নিয়ে চলা গাড়িটি ঘুরিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর কথায় সাড়া দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া লোকজনও রাস্তা ছেড়ে দেন। এরপরই যানজট কাটিয়ে বেরিয়ে যায় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গাড়ি। এই সময় দু’জনের মধ্যে চোখাচোখি হতেই হাতজোড় করে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। হাসিমুখে কিছুক্ষণ কথাও বলেন তাঁরা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে উৎসবের দিনে এই সৌজন্য বিনিময়ের ছবিই নজর কেড়েছে অনেকের। তবে এই দৃশ্যের তাৎপর্য বুঝতে ফিরে তাকাতে হবে কয়েক বছর আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। একসময় কুণাল ঘোষ ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট তিক্ত। তখন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় তাঁর কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছিল। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বিভিন্ন নির্দেশ ও মন্তব্য তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে, তৎকালীন শাসকদলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর রায় ও অবস্থান নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছিল তৃণমূলের একাংশ। ফলে দু’জনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল প্রকাশ্যেই। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির বদল ঘটে। ২০২৪ সালে বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনে জিতে তিনি তমলুকের সাংসদ হন। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে বেলেঘাটা কেন্দ্রের বিধায়ক হন কুণাল ঘোষ। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণেও এসেছে পরিবর্তন।






