“চরম শাস্তি দিতে হবে!”, জাহাঙ্গিরকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহ’ তৃণমূল বিধায়কের
অভিষেকের প্রিয় পাত্রকে দল থেকে তাড়াতে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে
Truth of Bengal: গত ২৯ এপ্রিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক বুথ লুঠ ও ইভিএম জালিয়াতির জেরে ভোট বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই মোতাবেক আজ, ২১ মে বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় ফলতায় পুনর্নির্বাচন চলছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনের প্রশংসা করে নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেন জাহাঙ্গীর খান। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি দাবি করেন, ‘ফলতার মানুষের শান্তি রক্ষার স্বার্থেই তিনি লড়ছেন না।’ কিন্তু নতুন বিজেপি সরকারের অ্যাকশনের ভয়েই যে ‘পুষ্পা’ খ্যাত জাহাঙ্গির এভাবে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন, তা নিয়ে এবার লাইভ ইন্টারভিউতে বিস্ফোরক দাবি করলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
“অনুমতি ছাড়া পাতা নড়ত না, আজ সেই বাঘ বিড়াল কেন?”
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, “উনি প্রচার শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ভোট প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার নাটক করছেন। বললেই তো আর হল না! আমরা রাজ্যে সরকার গঠন করতে পারিনি, নতুন বিজেপি সরকার এসেছে। এই চরম দুঃসময়ে ফলতায় ভোট হচ্ছে, আর ঠিক তখনই ওঁর মতো একজন প্রভাবশালী নেতার এই পলায়নবাদী সিদ্ধান্ত দলের সাধারণ কর্মীদের মনোবলকে পুরো তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। ওঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে দলবিরোধী কাজের জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
সন্দীপন আরও যোগ করেন, “ফলতায় ওঁর একচ্ছত্র সাম্রাজ্য চলত। একটা ছোট কাজ করতে গেলেও জাহাঙ্গির খানের অনুমতির প্রয়োজন হত। তাহলে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই ওঁর এইটুকু লড়াই করার সাহস থাকল না কেন? নির্বাচনে হার-জিত তো থাকবেই, কিন্তু ময়দান ছাড়ার এই কাপুরুষোচিত সাহস ও পেল কোথা থেকে?”
“প্রার্থী হাঁটলেই ভিডিও আসত ‘বস বস’!”, টিপ্পনী কুণালের
জাহাঙ্গিরের এই ডিগবাজি নিয়ে সমান্তরালে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। কালীঘাটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষোভপ্রকাশের পর কুণাল বাবু বলেন, “ও তো নিজেকে পুষ্পা দাবি করত, তো পুষ্পা আজ ঝুকল কেন? ও কি নিজেই এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল, আর আজ নতুন পুলিশের ভয়ে নিজেই ভয় পেয়ে গেল? সেখানে তো ও রাস্তায় হাঁটলেই চারপাশ থেকে ‘বস, বস’ বলে স্লোগান উঠত এবং সেই ভিডিও ভাইরাল করা হত। পুরো বিষয়টি দল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের জমানায় জাহাঙ্গিরের ডানা ছাঁটা হতেই যেভাবে দলের ভেতরের পুরনো নেতারা বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন, তাতে ফলতার ভোটের ফলের আগেই তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন আসন্ন।




