কলকাতা

৬ জুন নিয়োগকারী সংস্থাদের নিয়ে সিম্পোজিয়াম : মুখ্যমন্ত্রী

ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জীর নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: রোজগার মেলার মাধ্যমে দেশের ৪৭টি স্থানে একযোগে নিয়োগপত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নয়াদিল্লি তে এই কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ।এই পর্যায়ে দেশের মোট ৫১ হাজার যুবক-যুবতীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তারই অঙ্গ হিসেবে কলকাতার শিয়ালদার ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় অডিটোরিয়ামে এক গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলা। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জীর নেতৃত্বে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী জীর দিশা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধ-এর ফলেই দেশের যুবসমাজ আজ নতুন করে কর্মসংস্থানের আশা পাচ্ছে এবং ভারত ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের নাম টিচার রিক্রুটমেন্ট স্ক্যাম, মিউনিসিপাল রিক্রুটমেন্ট স্ক্যাম সহ একাধিক দুর্নীতির ঘটনায় কলঙ্কিত হয়েছে। এর ফলে বাংলার শিক্ষিত যুবসমাজের ভবিষ্যৎ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি রেলওয়ে সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিও পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার পশ্চিমবঙ্গকে সেই অন্ধকার অধ্যায় থেকে বের করে আনতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে রাজ্য সরকারের সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন এবং সাংবিধানিক রিজার্ভেশন নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আগামী ৬ জুন রাজ্যের সমস্ত নিয়োগকারী সংস্থাকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হবে, যেখানে রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রয়োজনে বিধানসভায় নতুন রিক্রুটমেন্ট পলিসি আইনও আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ওএমআর ভিত্তিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কার্বন কপি প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং কারচুপির কোনও সুযোগ না থাকে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বরও কমিয়ে লিখিত পরীক্ষা এবং একাডেমিক স্কোরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার সংবিধানসম্মত ‘হান্ড্রেড পয়েন্ট রোস্টার’ কার্যকর করেনি, যার ফলে এসসি, এসটি, ওবিসি, ইডব্লিউএস এবং শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার এই সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গে ৬১টি নতুন রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বহুদিন ধরে জমি সমস্যায় আটকে থাকা প্রকল্পগুলির জটও ইতিমধ্যেই কাটানো হয়েছে। জোকা-দমদম মেট্রো সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ডবল ইঞ্জিন সরকারের গতি বাংলার মানুষ প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, বিকশিত ভারত তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পশ্চিমবঙ্গও বিকশিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জীর নেতৃত্বে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ‘রোজগার মেলা’ শুধুমাত্র চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলার যুবসমাজের কাছে নতুন ভরসা, স্বচ্ছতা এবং সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জীর নেতৃত্বে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গীকারে পশ্চিমবঙ্গ আজ কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

Related Articles