মাঝরাতে মালদহে এনআইএ-র মেগা অপারেশন! মোথাবাড়ি-কাণ্ডে একঝাঁকে গ্রেফতার ১৪
মোথাবাড়ি-কাণ্ডে একযোগে গ্রেফতার ১৪, ধৃতের সংখ্যা ছুঁল ৬৮
Truth of Bengal: ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হতেই মালদহের চাঞ্চল্যকর মোথাবাড়ি-কাণ্ডের তদন্তে রকেট গতি এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। সোমবার গভীর রাতে মালদহের কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় অতর্কিতে হানা দিয়ে আরও ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই নিয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৬৮-তে। আজ, মঙ্গলবার ধৃত ১৪ জনকে বিশেষ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এনআইএ। গোয়েন্দাদের দাবি, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাইকরণ পর্ব চলাকালীন খোদ বিচারকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিল এই ১৪ জন।
কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে? কেন তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য?
বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য যখন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকা। অভিযোগ ওঠে, সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সুপরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে এসআইআর-এর কাজে আসা সাতজন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে তাণ্ডব চালায় একদল উন্মত্ত জনতা।
সেই অবরুদ্ধ বিচারকদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় যে, একেবারে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে বিডিও অফিস ছাড়তে বাধ্য হন ওই বিচারকেরা। খোদ বিচার ব্যবস্থার ওপর এমন নজিরবিহীন হামলায় তোলপাড় হয়ে যায় দেশের আইন আদালত। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেয় এনআইএ-র হাতে। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি তিনটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করে কোমর বেঁধে তদন্তে নামে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জালে রাঘববোয়ালরা
ঘটনার পরপরই তৎকালীন রাজ্য পুলিশ মোথাবাড়ি বিধানসভার আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদেরিকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এই হিংসার অন্যতম মূল চক্রী তথা মিম (AIMIM) নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে পাকড়াও করে সিআইডি। ধাপে ধাপে আরও ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআইএ মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রথমে মোথাবাড়ির প্রভাবশালী আইএসএফ নেতা গোলাম রাব্বানিকে গ্রেফতার করেন। তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বিডিও অফিসের ভেতরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ১৪ জনের সুনির্দিষ্ট নাম পান তদন্তকারীরা। সোমবার রাতের এই মেগা অভিযানের পর এনআইএ-র দাবি, এই ১৪ জনকে জেরা করে নবান্ন বদলের আগে ঘটে যাওয়া এই গভীর চক্রান্তের নেপথ্যে আর কোন কোন রাঘববোয়াল যুক্ত ছিল, তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে।






