SIR-এ নাম বাদ, ওঠেনি ট্রাইব্যুনালেও! অবসাদে চরম সিদ্ধান্ত কালনার যুবকের
এসআইআরে নাম কাটা পড়তেই বিডিও-র ফোনে চরম আতঙ্ক, কালনায় উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত দেহ!
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের তাড়াহুড়ো ও বিতর্কিত নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মারাত্মক মানসিক বিষময় পরিণতি এবার এক মর্মান্তিক প্রাণহানির রূপ নিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ‘ডি-ভোটার’ বানিয়ে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়ার তীব্র আতঙ্কে কালনার খড়িনানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ৪০ বছর বয়সী হাসানউদ্দিন মোল্লা। বুধবার গভীর রাতে নিজ ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পরিবার। তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে কালনা ব্লকজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনের বিতর্কিত এসআইআর তালিকায় নাম কাটা যাওয়ার পর থেকেই এক অজানা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছিল হাসানউদ্দিনকে। নাম পুনরুদ্ধারের আশায় ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো হলেও দীর্ঘদিনে কোনও সুরাহা মেলেনি। ‘আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না তো?’, এই আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন। অবস্থা এতটাই বেগতিক হয় যে, বর্ধমানে নিয়ে গিয়ে তাঁর মানসিক চিকিৎসাও করাতে হয়। স্বজনেরা জানান, গভীর বিষাদ ও আতঙ্কের জেরে এর আগেও কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন হাসানউদ্দিন।
কিন্তু সম্প্রতি এই দীর্ঘ আতঙ্কের আগুনে অনুঘটকের কাজ করে একটি অচেনা ফোন কল। স্বজনদের দাবি, গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় বিডিও অফিস থেকে একটি ফোন আসে হাসানউদ্দিনের মোবাইলে। ফোন থেকে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি পরিযায়ী শ্রমিক? তাঁর কাছে শ্রমিকের কোনও কার্ড রয়েছে কিনা এবং ভোটার তালিকায় নাম কেন নেই? এই প্রশাসনিক জিজ্ঞাসাবাদের পরই পুরনো আতঙ্ক নতুন করে গ্রাস করে হাসানউদ্দিনকে। তার পরপরই বুধবার রাতে চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনা সামনে আসতেই ব্লক প্রশাসন জানায়, ফোন কল কেন্দ্রিক তথ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত ও জেদের কারণে কীভাবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে কমিশনের চরম অন্তর্দ্বন্দ প্রকাশ পেয়েছে। উপযুক্ত যাচাই ছাড়া লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের নাম বাতিলের এই প্রশাসনিক ত্রুটির ফলেই আজ হাসানউদ্দিনের মতো সাধারণ মানুষকে জীবন দিতে হলো বলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। এই আত্মহত্যার ঘটনা এসআইআর-এর ভয়াবহ রূপকে ফের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দাঁড় করাল।






