কলকাতা

পুজোর বিজ্ঞাপনে হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে কেলেঙ্কারি! বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতা পুরসভা

দশভুজার ভুল কাটতে না কাটতেই নয়া কেলেঙ্কারি! পুরসভার পুজো বিজ্ঞাপনে বাংলা-হিন্দির গুরুচণ্ডালী মেলা

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকের বিজ্ঞাপনে দশভুজার পরিবর্তে এগারো হাতের দুর্গার ছবি ছাপিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। সেই ভুল নজরে আসতেই অবশ্য দ্রুত তা সংশোধন করা হয় এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং প্রকাশ্যে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষতের প্রলেপ মিলতে না মিলতেই এবার একই পুজোর বিজ্ঞাপনকে ঘিরে দেখা দিল নতুন চরম বিভ্রান্তি! বাংলা ও হিন্দি মেশানো বিকৃত বাক্যাংশে কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপনে লেখা হল, ‘মায়ের করব স্বচ্ছতা সে স্বাগত’। উৎসবের দিনগুলোতে তিলোত্তমা যাতে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন থাকে, সেই সচেতনার বার্তা দিতে গিয়ে তৈরি হওয়া এমন অদ্ভুত গুরুচণ্ডালী দোষ দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সামাজিক মাধ্যমে কড়া পোস্ট করে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পর, বিতর্কের আগুনে ঘি পড়তে দেখে তড়িঘড়ি পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর থেকেই শহরের পরিচ্ছন্নতার ওপর বাড়তি নজর দিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কেবল তিলোত্তমা কলকাতা নয়, রাজ্যের সমস্ত বড় বড় শহর ও পুরসভাগুলিতে সাফাই অভিযান জোরকদমে চলছে। একাধিকবার পুরমন্ত্রীকে নিজেকেও হাতে ঝাঁটা তুলে নিয়ে রাস্তায় নেমে শহর সাফাই করতে দেখা গিয়েছে। সেই একই সক্রিয়তা যাতে মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বজায় থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে ১০ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শহরকে ধুলোবালি ও আবর্জনামুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু বার্তার ভাল উদ্দেশ্যের আড়ালে আত্মপ্রকাশ ঘটে এমন হাস্যকর ও বিকৃত এক ভাষার রূপান্তর।

পুরসভার অফিশিয়াল সামাজিক পাতায় এই বিজ্ঞাপনটি চোখে পড়তেই নিজের এক্স-হ্যান্ডেলে (টুইটার) ক্ষোভ উগরে দেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিজ্ঞাপনটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি লেখেন, “এটা কী? এটা কি আদতে বাংলা ভাষা? আপনারা কি সাধারণ মানুষের সাথে মজা করছেন?” কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ, বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলার বুখে অ-সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কীভাবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও মর্যাদা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়, তারই চরম নিদর্শন এই বিজ্ঞাপন। অবিলম্বে এই বিকৃত পোস্ট মুছে ফেলে শুদ্ধ বাংলায় নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।

তৃণমূল নেতার এই আক্রমণের পর রাজনৈতিক পারদ একধাক্কায় অনেকটা চড়ে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে অনুধাবন করে ফেসবুক ও এক্স পাতায় থাকা বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলতে বাধ্য হয় পুর কর্তৃপক্ষ। তবে বারবার বিজ্ঞাপনে এমন অমার্জিত ভুল সামনে আসায় প্রশাসনের কাজের ধরন ও পেশাদারিত্ব নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল রাজনৈতিক মহলে।

Related Articles