শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বেআইনি আটক নয়! সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
"প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু আইন ভেঙে নয়!" যন্তর মন্তর কাণ্ডে দিল্লি পুলিশকে ধমক শীর্ষ আদালতের
Truth of Bengal: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) সহ একাধিক বিরোধী ও ছাত্র সংগঠনের ডাকা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে তৈরি হওয়া চরম অচলাবস্থায় অবশেষে হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। রবিবার ছুটির দিনে এক বিশেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলাকালীন কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। পাশাপাশি, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়া মেট্রো ও রেল পরিষেবা অবিলম্বে স্বাভাবিক করার এবং বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে চালুর কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে প্রাক-শুনানিতে শীর্ষ আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে আইন মেনে, আইন ভেঙে নয়।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শনিবারে যন্তর মন্তরে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি ও মিত্র সংগঠনগুলি। সেই আন্দোলন রুখতে সমগ্র দিল্লিকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিল পুলিশ প্রশাসন। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছিল উঁচু ব্যারিকেড। আন্দোলনকারীদের জমায়েত রুখতে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল করা হয় এবং দিল্লির অন্তত ৪৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি যন্তর মন্তর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।
পুলিশের এমন নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তার জেরে গোটা দিল্লি জুড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিত্যযাত্রী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশি অতিসক্রিয়তা এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রবিবার সেই মামলার প্রেক্ষিতে শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পুলিশের পদক্ষেপে লাগাম টানল।
সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, জনজীবন ব্যাহত করে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘক্ষণ চাপিয়ে রাখা যাবে না। সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে মেট্রো এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অবিলম্বে স্বাভাবিক করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ রাখা হয়েছিল, সেখানেও অবিলম্বে সংযোগ বহাল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সাধারণ মানুষ যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ বা প্রতিবাদ করতে চান, তবে তাঁদের অন্যায় বা বেআইনিভাবে আটক করার এক্তিয়ার পুলিশের নেই। আদালতের এই আদেশের পর অবরুদ্ধ দিল্লিতে দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।






