ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানিতে আপত্তি হাইকোর্টের, রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ
প্রায় প্রতিদিনই দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে ভোটাররা কেন আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালের ধীরগতি ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। সাধারণ ভোটারদের চরম হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনে এই ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি জেলায় জেলায় গঠন করা হোক। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছেন বিচারপতি। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের অবকাশকালীন বেঞ্চে একটি মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি। প্রায় প্রতিদিনই দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে ভোটাররা কেন আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুনানি চলাকালীন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল প্রশ্ন করেন, “এত হয়রানি হচ্ছে কেন? একজন মানুষ উত্তরবঙ্গের দিনহাটা থেকে শুনানির জন্য কলকাতার জোকায় আসবেন?” সাধারণ মানুষের মৌলিক তথা সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে এভাবে বারবার মামলা দায়ের হওয়া যে কাম্য নয়, তা মনে করিয়ে দেন তিনি। এর পরই রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের উদ্দেশে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “শীর্ষ আদালতে আপনারা মামলা করে আর্জি জানান, যাতে ট্রাইব্যুনাল জেলায় জেলায় করা হয়।”
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের পূর্বতন নির্দেশিকা মেনে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন। বিচারাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার জন্য এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছু সংখ্যক ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি করা হলেও, সেই সংখ্যাটা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। বাকি লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে। নাম সংশোধনের শুনানির জন্য জোকায় গঠিত মূল ট্রাইব্যুনালের সামনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে হচ্ছে দূর-দূরান্তের মানুষকে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদনের চাপ এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে কবে এই সব প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধেই এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট।






