আদালত চত্বরে তোলাবাজিতে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো ও ডিম, দেওয়া হয় ‘চোর’ স্লোগান
রবিবার আদালত চত্বরেই ধৃত কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে জুতো ও ডিম ছোড়েন বিক্ষুব্ধ জনতা
Truth of Bengal: লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে আলিপুর আদালতে তোলার সময় তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হল। রবিবার আদালত চত্বরেই ধৃত কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে জুতো ও ডিম ছোড়েন বিক্ষুব্ধ জনতা। একইসঙ্গে তাঁকে উদ্দেশ্য করে চারপাশ থেকে তীব্র ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মীরা তড়িঘড়ি সুদীপকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে আদালত কক্ষে নিয়ে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং গরুপাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রেও আদালত চত্বরে জুতো ছোড়া ও ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার মতো একই ধরনের জনরোষের ছবি দেখা গিয়েছিল।
অভিযুক্ত সুদীপ পোল্লে কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। শুধু তাই নয়, পুরসভার ১৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বেহালা এলাকায় তাঁর যথেষ্ট রাজনৈতিক দাপট ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেহালার শীলপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী স্থানীয় ঠাকুরপুকুর থানায় সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন এই তৃণমূল কাউন্সিলর। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করা হতো এবং দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও সুদীপ হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরই শনিবার রাতে ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিএনএস বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তোলাবাজি বা কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে। এরপর থেকেই কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতানেত্রী ও জনপ্রতিনিধি পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন। সরকারি তথ্য বলছে, গত মাত্র সাতদিনেই এই ধরনের অভিযোগে ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো কলকাতা পুরসভার এক হেভিওয়েট কাউন্সিলরের নাম, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।






