কলকাতা

Anannya Hospital: সরকারি হাসপাতালে নজিরবিহীন মডেল! এবার স্বনির্ভর পথে এসএসকেএমের ‘অনন্য’ ইউনিট

সূত্রের খবর, চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই 'অনন্য'-তে ভালো সাড়া মিলছে।

Truth of Bengal: সরকারি অনুদান বা ভরসার পথ ছেড়ে এবার সম্পূর্ণ স্বনির্ভর মডেলে চলার পথে পা রাখল রাজ্যের অন্যতম সেরা সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতাল। স্বাস্থ্য দফতরের নতুন এই চিন্তাধারায়, বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করেছে হাসপাতালের নতুন ইউনিট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনন্য’। রোগীদের কাছ থেকে ন্যূনতম খরচ নিয়েই চলবে এই বিশেষ হাসপাতালটি। রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এমন মডেল এই প্রথম। এই ইউনিটটি পরিচালনার জন্য কোনো সরকারি ভর্তুকি বা অর্থসাহায্য নেওয়া হবে না। রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া কেবিন ভাড়া ও চিকিৎসা খরচ থেকেই হাসপাতালের যাবতীয় ব্যয়ভার মেটাতে হবে। এই ‘সেলফ সাসটেইনিং’ মডেলের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল (Anannya Hospital)।

আরও পড়ুনঃ যোগীরাজ্যে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে খুন! এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ অভিযুক্ত বিশাল

সূত্রের খবর, চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ‘অনন্য’-তে ভালো সাড়া মিলছে। আধুনিক সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম খরচ—সব মিলিয়ে রোগীদের মধ্যে এই নতুন ইউনিট নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা দিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা জানান, এই মডেল সফল হলে একই ধাঁচে রাজ্যের অন্যান্য বড় সরকারি হাসপাতালেও এমন স্বনির্ভর ওয়ার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘অনন্য’-তে কেবিনের ভাড়া রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। এখানে সিঙ্গল অকুপেন্সি কেবিনের দৈনিক ভাড়া ধার্য করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, যেখানে স্যুইটের ভাড়া ৮ হাজার টাকা। এইচডিইউ (ভেন্টিলেটর বা বাইপ্যাপ বাদে) প্রতিদিনের জন্য ১২,০০০ টাকা এবং সমস্ত খরচসহ আইসিইউ-এর জন্য প্রতিদিন ১৫,০০০ টাকা দিতে হবে। চিকিৎসক দেখানোর ক্ষেত্রেও আউটডোরে ফি নির্দিষ্ট করা হয়েছে ৩৫০ টাকা, যার মধ্যে চিকিৎসক পাবেন ৩০০ টাকা এবং বাকি ৫০ টাকা পিজি হাসপাতালের প্রশাসনিক খরচ হিসেবে গণ্য হবে। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনটি দফায় চিকিৎসকরা রোগী দেখবেন (Anannya Hospital)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/

‘অনন্য’-র আয়ের একটি অংশ সরকারি চিকিৎসকদের জন্যেও রাখা হয়েছে। হাসপাতালটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ (ওষুধ ও টেস্ট বাদে) চিকিৎসকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তাঁদের এই অংশ মূলত কেবিন ভাড়া, অপারেশন এবং অন্যান্য চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার খরচ থেকে আসবে। ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। ১০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনের ওপরের তলায় রয়েছে ৮টি ভিআইপি স্যুইট। বাকি তলাগুলিতে রয়েছে ১০২টি আধুনিক কেবিন, ৫টি এইচডিইউ বেড এবং ১৬টি আইসিইউ বেড। আউটডোর বিভাগটি গত বুধবার থেকেই চালু হয়েছে, এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি প্রথম পর্যায়ের ইনডোর পরিষেবা ১৭টি কেবিন নিয়ে শুরু হবে। কেবিন ভাড়ার মধ্যে চিকিৎসকের ফি এবং রোগীর খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ আলাদাভাবে বহন করতে হবে। অপারেশন করা হবে প্যাকেজ ব্যবস্থায়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, রাজ্যের অন্যতম জনমুখী প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমেও রোগীরা এই ইউনিটে পরিষেবা নিতে পারবেন। উডবার্ন–২ ওয়ার্ড বা ‘অনন্য’ সফল হলে এই মডেলে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে উন্নত পরিষেবা প্রদানের পথ সুগম হবে (Anannya Hospital)।

Related Articles