কলকাতা

বেকারদের ৩,০০০ টাকা, মহিলাদের জন্য ‘দুর্গা স্কোয়াড’! বিজেপির ‘সংকল্পপত্রে’ বড় ঘোষণা শাহের

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ৩০০০ টাকা! ৪৫ দিনে পে-কমিশন থেকে ১ কোটি চাকরি, শাহী সংকল্পপত্রে বড় চমক

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় ১০ হাজার মানুষের পরামর্শ নিয়ে তৈরি এই সংকল্পপত্রে বাংলার জন্য একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি দিল গেরুয়া শিবির। শাহের সাফ দাবি, আগামী ৫ বছর বিজেপি সরকার বাংলার বিকাশের রাস্তা খুলে দেবে এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের ‘দুঃস্বপ্ন’ ঘুচিয়ে নতুন বাংলা গড়বে।

কলকাতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, “সিন্ডিকেট, গুন্ডা ও অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের কালরাত্রির মতো কেটেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা গড়ে তোলা হবে। রবীন্দ্র জয়ন্তীর আশেপাশেই ভয় থেকে মুক্তি পাবেন রাজ্যবাসী।” তিনি আরও জানান, ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে-কমিশন চালু করা হবে এবং ডিএ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার।

বাংলার মহিলাদের মন জয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা বড় ঘোষণা করেছেন শাহ। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। বেকার যুবকদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা এবং স্টার্ট-আপের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের দিশা দেখিয়েছে পদ্মশিবির। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের জন্য এইমস (AIIMS) ও আইআইটি (IIT) গড়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজেপির এই সংকল্পপত্রে বড় চমক হলো ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে বাংলায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড লাগু করা হবে।” এর পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা, কৃষকদের থেকে সরাসরি শস্য কেনা এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শাহের কথায়, “এবার বাংলার মানুষ নতুন রাস্তা খুঁজে পাবে, সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি।”

একনজরে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’:

১. আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা:

  • মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য (মাসের ১-৫ তারিখের মধ্যে)।

  • বেকার যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা বেকার ভাতা।

  • অন্তঃসত্ত্বাদের এককালীন ২১ হাজার টাকা সাহায্য।

  • বিধবা ও প্রবীণ নাগরিকদের সরকারি সহায়তা দ্বিগুণ করা হবে।

২. সরকারি চাকরি ও শিক্ষা:

  • সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ।

  • ৫ বছরে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

  • মেধাবী ছাত্রদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আর্থিক সাহায্য।

৩. পরিকাঠামো ও শিল্প:

  • রাজ্যের বন্ধ জুটমিল পুনরায় খোলা হবে।

  • সিঙ্গুরে বিজনেস পার্ক তৈরি করে শিল্পায়ন।

  • কুলপি ও তাজপুরে নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ।

  • কলকাতা মেট্রোর আরও প্রসার ও আধুনিকীকরণ।

৪. কৃষি ও কৃষক কল্যাণ:

  • কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকা দরে সরাসরি ধান কেনা।

  • প্রতি ব্লকে আলু ও আমের জন্য কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ।

  • পিএম মৎস্য প্রকল্পের আওতায় মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন।

৫. উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল স্পেশাল:

  • উত্তরবঙ্গে এইমস (AIIMS), আইআইটি (IIT) এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান।

  • দার্জিলিংয়ে বিশেষ চা বোর্ড গঠন এবং হেরিটেজ পর্যটন কেন্দ্রের মর্যাদা।

  • জঙ্গলমহলে অত্যাধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ।

৬. কঠোর আইন ও নিরাপত্তা:

  • ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) লাগু।

  • মহিলাদের নিরাপত্তায় স্পেশাল ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।

  • অনুপ্রবেশ, গরুপাচার, কয়লা ও বালিপাচার রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

  • সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত।

Related Articles