রুশ তেলের ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা, নতুন মার্কিন আইন কার্যকর
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
Truth of Bengal: রুশ তেলের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ‘শিক্ষা’ দিতে আনা নতুন মার্কিন বিলে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান বিল’-এ শুক্রবার ট্রাম্প সই করতেই তা পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইনের ফলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল বা পণ্য আমদানি করা দেশগুলির ওপর আমেরিকা এবার থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পেল, যার বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতও কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য, যে সমস্ত দেশ রাশিয়ার থেকে তেল ও জ্বালানি কিনছে, তারা আসলে পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের ওপর হামলা চালানোর জন্য মস্কোকে আর্থিক রসদ জোগাচ্ছে। প্রয়াত মার্কিন সেনেটরের সম্মানে নামাঙ্কিত এই আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার মূল আয়ের উৎস তেলের বাজারে আঘাত এনে ক্রেমলিনকে আর্থিক চাপে ফেলাই আমেরিকার প্রাথমিক লক্ষ্য।
ভারতের মতো দেশগুলি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলেছে। এর আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হলেও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তার তীব্র সমালোচনা করেছিল। এবার ট্রাম্প কোনো রকম আইনি ঝুঁকি না নিয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও আইনি উপায়ে বিলটি অনুমোদন করিয়ে নিয়ে নিজের হাত শক্ত করলেন।
আমেরিকার এই নতুন আইনের ফলে ভারত, চীন, জাপান, আজারবাইজান, স্লোভাকিয়া এবং হাঙ্গেরির মতো একাধিক দেশ বড় আর্থিক ও বাণিজ্যিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। বহুদিনের ‘বন্ধু’ হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ঠিক কতটা শুল্ক আরোপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহল।






