পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধাবহের ধাক্কা! জ্বালানি সাশ্রয়ে পাকিস্তানে ফের ‘লকডাউন’-এর মতো কড়াকড়ি
জ্বালানি সাশ্রয় করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে শাহবাজ শরিফ সরকার
Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে চাপ বাড়তেই ফের ব্যয়সঙ্কোচনের পথে পাকিস্তান। জ্বালানি সাশ্রয় করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। রাত ৯টার মধ্যে দোকান-বাজার ও শপিং মল বন্ধ করা থেকে শুরু করে সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক করা—একাধিক পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে অবিলম্বে। বিধিনিষেধের ব্যাপকতা দেখে অনেকেই এর সঙ্গে করোনা-কালের ‘লকডাউন’ পর্বের তুলনা টানছেন। পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, জরুরি পরিষেবা এবং নির্দিষ্ট সরকারি কাজের গাড়িকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন সরকারি গাড়ি কেনার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দোকান, বাজার, শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সাধারণ বিপণি রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়েবাড়ি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল বন্ধ হবে রাত ১০টার মধ্যে। রেস্তরাঁ, ক্যাফে এবং খাবারের দোকান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে টেকঅ্যাওয়ে ও হোম ডেলিভারি পরিষেবা এই সময়সীমার বাইরে থাকবে। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ওষুধের দোকান, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান, বেকারি, জ্বালানি ও সিএনজি স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, জিম, ক্রীড়া কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এবং কল সেন্টারকে সময় সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কড়াকড়ি এসেছে বিয়ের অনুষ্ঠানেও। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিয়ে সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য মাত্র একটি পদের খাবার পরিবেশন করতে হবে। সরকারি খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ সফরেও রাশ টানা হচ্ছে। জরুরি বা বাধ্যতামূলক সফর ছাড়া বিদেশযাত্রা তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি আধিকারিকদের অনুমোদিত বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াতের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমাতেও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও চলতি বছরের মার্চ মাসে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে পাকিস্তান একই ধরনের ব্যয়সঙ্কোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে জুন মাসে বেশ কিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও বাজার বন্ধের সময়সীমার মতো কয়েকটি নিয়ম বহাল ছিল। নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় সেপ্টেম্বরেই ফের কড়াকড়ির পথে হাঁটল ইসলামাবাদ।




