কলকাতা

ঘাসফুলের পর এবার ‘খাম’ ঘিরে প্রতীক-যুদ্ধ! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন নওশাদ

দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে এসেছে নওশাদ সিদ্দিকির দল

Truth of Bengal: ঘাসফুলের পর এবার ‘খাম’ ঘিরে নতুন প্রতীক-যুদ্ধ! নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির পেয়েছে নতুন নাম—‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। সঙ্গে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে এসেছে নওশাদ সিদ্দিকির দল। এবার একই প্রতীক অন্য রাজনৈতিক দলকে দেওয়ায় কমিশনের সিদ্ধান্তকে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে তারা। শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। পরে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১০ মার্চ খাম প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি পুনর্নবীকরণ করেছিল আইএসএফ। তাঁর প্রশ্ন, সেই অনুমতি কার্যকর থাকার পরেও কী ভাবে একই প্রতীক ঋতব্রতদের নতুন দলকে দেওয়া হল? বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আইএসএফ এখনও ‘স্বীকৃত’ রাজ্য দল নয়। ফলে ‘খাম’ তাদের সংরক্ষিত প্রতীক নয়। নির্বাচন প্রতীক আদেশের নিয়ম অনুযায়ী, অস্বীকৃত দলগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে ‘ফ্রি সিম্বল’ তালিকা থেকে একটি সাধারণ প্রতীক ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়। আইএসএফ সেই ব্যবস্থাতেই খাম ব্যবহার করছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের বিভাজনের পর কমিশন ঋতব্রত শিবিরকে অন্তর্বর্তীভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের মর্যাদা দিয়ে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে। কমিশন সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই যুক্তিই সামনে এসেছে। আইএসএফ অবশ্য এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। নওশাদের দাবি, ২০২১ সাল থেকেই বাংলার ভোটারদের কাছে খাম প্রতীকটি তাঁদের দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আগেও সেই প্রতীক ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া হয়েছিল। ফলে উপনির্বাচনের মুখে হঠাৎ প্রতীক বদলাতে হলে প্রচারসামগ্রী থেকে ভোটারদের কাছে দলের পরিচিতি—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে দল। নওশাদ আরও অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আইএসএফকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে এটি নওশাদের রাজনৈতিক অভিযোগ; কমিশনের তরফে এমন কোনও উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়নি।

ঘটনার সূত্র তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা দ্বন্দ্বে। নির্বাচন কমিশন পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করার পর দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে ‘Mamata All India Trinamool Congress’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। ঋতব্রত শিবির পেয়েছে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম এবং তাদের প্রথম পছন্দের ‘খাম’ প্রতীক। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে চলেছে। ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী জানিয়েছেন, নতুন ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই তাঁরা প্রচারে নামবেন। অন্যদিকে আইএসএফও নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছে এবং তাদের প্রচারসামগ্রীর বড় অংশেই ইতিমধ্যে খাম প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে বলে দলের দাবি।

Related Articles