প্রেমের ফাঁদ! ছাত্রের তৈরী ‘লাভ’ ভাইরাসে আতঙ্কে ছিল গোটা পৃথিবী
Trap of love! The whole world was in fear of the student's 'profit' virus

Truth Of Bengal: ২৪ বছর বয়সী ছাত্র ওনেল ডি গুজম্যানের বানানো ইমেল ভাইরাস, যা লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারে প্রভাব ফেলেছিল। গোটা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এই ভাইরাস, নাম ‘আই লাভ ইউ’ বা ‘লাভ বাগ’। ভাইরাসটি তৈরি হয়েছিল ২০০০ সালের মে মাসের ৪ তারিখ। ফিলিপিন্সে বসে এই ভাইরাস বানিয়েছিল ওনেল ডি গুজম্যান। ফিলিপিন্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই ভাইরাস দখল করেছিল গোটা বিশ্ব।

কারো প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে এই তিনটি শব্দ মূলত ব্যবহার করা হয়ে থাকে, ‘আই লাভ ইউ’। কিন্তু ভালবাসার ছদ্মবেশে এসে গোটা পৃথিবীর কম্পিউটার সিস্টেমকে নাড়িয়ে দিয়েছিল ‘আই লাভ ইউ’ ভাইরাস। যা পৃথিবীর অন্যতম ভয়ঙ্কর ভাইরাস।

ভাইরাস তৈরী করার প্রায় ২০ বছর পরে ওনেল জানান, তিনি ভাবতে পারেননি এই ভাইরাস সারা বিশ্ব এইভাবে দাপিয়ে বেড়াবে। তাঁর তৈরি কোডের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সে জন্যও তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান। বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য পাসওয়ার্ড চুরির এই কোড বানিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

ওনেল ডি গুজম্যানকে পুলিশ ঘটনার পরপরই গ্রেফতার করে। সেই সময়ে ফিলিপিন্সে কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের জন্য কোনও আইন ছিল না, তাই গুজম্যান বা অন্য কাউকে এ জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। ২০০০ সালের মে মাসে, ‘আই লাভ ইউ’ লেখা একটি বিশেষ বার্তা ইন্টারনেটে ইমেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ফিলিপিন্স, তারপর হংকং, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং শেষে আমেরিকায় পৌঁছায়।

মাইক্রোসফ্ট সহ ফোর্ড, মেরিল লিঞ্চ, পেন্টাগন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কম্পিউটার সিস্টেমে ‘লাভ বাগ’ ভাইরাসটি হানা দেয়। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, ইতিহাসে এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ভাইরাস আসেনি। এর ফলে বিশ্বের বড় বড় সংস্থাগুলি প্রায় ৪২ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে।

এই মারাত্মক ভাইরাসটি ফোটোগ্রাফ, অডিয়ো ফাইল এবং নথি সহ সব ধরনের ফাইল ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এটি উইন্ডোজ় অপারেটিং সিস্টেমচালিত এক কোটিরও বেশি কম্পিউটারে আক্রমণ করেছিল। ‘আপনার জন্য ভালবাসার বার্তা আছে’ শিরোনামের একটি সংযুক্ত ফাইল পাঠানো হত, যা ব্যবহারকারীকে ইমেলের ফাইল খুলতে প্ররোচিত করত।

ফাইলটিতে ভাইরাস কোড থাকত, যা প্রথমে কম্পিউটারকে অকেজো করে দিত এবং তারপর বিভিন্ন ফাইল নতুন করে লিখে দিত। ভাইরাসটি নিজের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত এবং মাইক্রোসফ্ট আউটলুকে থাকা সব ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয় ইমেইল পাঠাত।

২০১৬ সালে, ফিলিপিন্সের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ফোরামে একজন গ্রাহক দাবি করেন যে, ভাইরাসের জনক ডি গুজম্যান ম্যানিলার কুয়াপো জেলায় একটি মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান চালান। বহু খোঁজাখুঁজির পর, ম্যানিলার একটি শপিং মলের একটি ঘুপচি ও অগোছালো স্টলে ওনেলের সন্ধান মেলে।

ঘটনার ২৪ বছর পরেও, এই ভাইরাসের নাম শুনলে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের বুক কেঁপে ওঠে। বাড়ির সাধারণ কম্পিউটার থেকে পেন্টাগনের সুপার কম্পিউটার পর্যন্ত কেউই এই ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি।






