২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন, বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যের
১০ জুলাই জারি হওয়া স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর অধীনে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে
Truth of Bengal: রাজ্যে ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, সংস্থা ও প্রকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার। ১০ জুলাই জারি হওয়া স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর অধীনে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু-র নেতৃত্বে এই কমিশন কাজ করবে। কমিশনের তদন্ত শাখার প্রধান থাকবেন একজন আইপিএস আধিকারিক। পাশাপাশি প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বে থাকবেন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য সদস্যকেও কমিশনের কাজে যুক্ত করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, ত্রাণ, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, শিল্প, পূর্ত, ভূমি ও ভূমি সংস্কার-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে কমিশন।
এছাড়া কমিশন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখবে—
* আম্পান পুনর্বাসন প্রকল্প,
* প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
* ১০০ দিনের কাজ,
* মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ।
তদন্তের আওতায় থাকবে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, বেআইনি সম্পত্তি অর্জন, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, মিথ্যা মামলা, বেআইনি গ্রেফতার, অবৈধ নির্মাণে মদত, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগও। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কমিশন দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা ভোগ করবে। প্রয়োজনে সাক্ষী তলব, নথি সংগ্রহ, হলফনামা গ্রহণ এবং সরকারি দফতর থেকে তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকবে কমিশনের। তদন্তে অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এফআইআর দায়েরের সুপারিশও করতে পারবে কমিশন।তবে যে সমস্ত অভিযোগ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও সাংবিধানিক সংস্থার তদন্তাধীন, সেগুলি এই কমিশন বিবেচনা করবে না। কমিশন নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে তদন্ত-রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দেবে।


