দেশ

রাজধানীতে রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ, কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে, যখন তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন যে লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত হলেন কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর উন নবি।

Truth Of Bengal: দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার দিল্লির মানোহর পর্রিকর ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই ঘটনার নেপথ্যে যারা আছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোরতম শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।”

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে, যখন তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন যে লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত হলেন কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর উন নবি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, লালকেল্লার সামনে যে সাদা গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, সেটি চালাচ্ছিলেন উমর নিজেই। হরিয়ানার ফরিদাবাদে যে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, তার সঙ্গেও উমরের যোগসূত্র মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। রাজনাথ সিং বলেন, “সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থাগুলি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আনা হবে।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তদন্ত চলাকালীন জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি ও দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান তপন ডেকা, দিল্লি পুলিশ কমিশনার সত্যেশ গোলচা এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল সদানন্দ বসন্ত দাতে। জম্মু ও কাশ্মীরের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ নলিন প্রভাত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন বৈঠকে।

বৈঠকে বিস্ফোরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অমিত শাহ জানান, সমস্ত শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে যাতে ঘটনার প্রকৃত চক্র উন্মোচিত হয়। দিল্লির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে।

ইতিমধ্যে তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে জানা গেছে বিস্ফোরিত গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ বা ইউএপিএ-র আওতায়।

Related Articles