শৈব তীর্থযাত্রীদের জন্য বড় উপহার! ১৪ ঘণ্টার পথ কমবে এক ধাক্কায়, কেন্দ্রকে মেগা প্রস্তাব বিহারের
কেন্দ্র অনুমোদন দিলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে
Truth of Bengal: ভারতের অন্যতম পবিত্র ভূমি দেওঘরের বৈদ্যনাথ ধাম এবং নেপালের কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দিরের মধ্যে এবার সরাসরি ও দ্রুতগতির সংযোগ গড়ে উঠতে চলেছে। ঝাড়খণ্ড ও নেপালের এই দুই বিখ্যাত শৈব তীর্থকে একটি অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই সড়কপথ চালু হলে বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর মাত্র ৩ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিহারের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী দিলীপকুমার জয়সওয়াল এই প্রকল্পের কথা জনসমক্ষে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ঝাড়খণ্ড থেকে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত একটি উচ্চ গতির করিডর তৈরির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিহার সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সড়ক নির্মাণের জন্য ৮,২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যার একটি বড় অংশ এই করিডর তৈরিতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্র অনুমোদন দিলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে সড়কপথে এই দুই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৫৩৪ কিলোমিটার। নতুন নকশা অনুযায়ী, এই পথ কাঠমান্ডু থেকে শুরু হয়ে নেপালের ভীমানগর ও বীরপুর দিয়ে বিহারের সুপল জেলায় প্রবেশ করবে। এরপর বিহারের মাধেপুরা, মুঙ্গের এবং বাঁকা জেলার বুক চিরে এক্সপ্রেসওয়েটি সরাসরি ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে বৈদ্যনাথ ধামে গিয়ে মিশবে। দূরত্ব এক ধাক্কায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় পর্যটকদের সময় ও জ্বালানি দুই-ই সাশ্রয় হবে।
মন্ত্রী দিলীপকুমার জয়সওয়াল আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারত ও নেপালের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্রও এর ফলে বদলে যাবে বলে তিনি মনে করছেন। ইতিমধ্যেই ভারত-নেপাল সীমান্তে ৫৫৪ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন এক্সপ্রেসওয়েটি আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে।


