দেশ

মুম্বাইয়ে রাজভবনে ‘মোদির মিশন’ গ্রন্থের উন্মোচন অনুষ্ঠান — প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় রাজনীতিক ও লেখকরা

Truth Of Bengal: শুক্রবার রাজভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করা ‘মোদীর মিশন’ শিরোনামের একটি অভিনন্দনমূলক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান। বইটি প্রকাশের মঞ্চটি পরিণত হয় মোদী বন্দনার প্রাচুর্যে, যেখানে রাজ্যের শাসকদল ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক থেকে শুরু করে গ্রন্থের লেখক — সকলে প্রধানমন্ত্রীকে অতুলনীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং আইন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম শিন্ডে। (Mumbai)

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ভেস্তে যাবে শনি-রবি? দক্ষিণ ২৪ পরগনা-মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ঝলমলে বক্তব্যটি আসে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের মুখে। তিনি ভগবদ্গীতার বিখ্যাত শ্লোক ‘যদা যদা হি ধর্মস্য’-র উদ্ধৃতি টেনে বলেন, এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই মোদীর উত্থান। দেবব্রতের ভাষায়, “নরেন্দ্র মোদী কেবল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নন — তিনি একটি ধারণা, এক আধ্যাত্মিক শক্তি, জাতির গৌরব। তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব ঐশ্বরিক ব্যবস্থার ফসল।” তিনি আরও দাবি করেন, মোদীর নেতৃত্বেই ৩৭০ ধারা বাতিল ও রামমন্দির নির্মাণ—যে দু’টিই একসময় অসম্ভব বলে বিবেচিত হয়েছিল — তা সহজে সম্ভব হয়েছে “ঐশ্বরিক ব্যবস্থার কারণেই”। (Mumbai)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

রাজ্যপাল বলেন, “সাধারণ মানুষ ব্যবস্থা মেনে চলে, কিন্তু মহাপুরুষেরা নতুন পথ তৈরি করেন যেটা মানুষ পরে অনুসরণ করে। মোদীও সে কাজ করেছেন।” তাঁর দাবি, মোদীর কোনো স্বার্থ নেই, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য জনকল্যাণ—আর তাই তিনি অল্প সময়ে ভারতকে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, “মোদীর একটি ফোন কলেই” রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ হয়েছিল। দেবব্রতের মন্তব্য — “প্রত্যেক ভারতীয়ের গর্বিত হওয়া উচিত যে মোদী ভারতে জন্মেছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ অনুষ্ঠানে বলেন, মোদীর নেতৃত্বে ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশের ভিত্তি স্থাপন করেছে। তাঁর কথায়, “এটি আর থামার নয়।” তিনি মোদীর কর-সংস্কার, বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যতে বিচারিক সংস্কারের আশার কথা তুলে ধরেন। উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে আরও এক ধাপ এগিয়ে বইটির একটি অধ্যায় স্কুলের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা “মোদীর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে”। (Mumbai)

বইটির লেখক বার্জিস দেশাই বলেন, যেমন বিংশ শতাব্দী মহাত্মা গান্ধীর নামে স্মরণীয়, তেমনি একবিংশ শতাব্দী হবে নরেন্দ্র মোদীর শতাব্দী। তাঁর মন্তব্য, “৫০ বছর পর মোদী ও গান্ধীর নাম একই শ্বাসে উচ্চারিত হবে, আর আধুনিক ভারতের ইতিহাসে মোদীর অবস্থান নিশ্চিত।”

আসীন আমলাদের প্রশস্তিমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি মূলত একটি রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা, যেখানে মোদী-নির্ভর ভাবনাকে আধ্যাত্মিকতা ও জাতীয় গর্বের সঙ্গে জুড়ে প্রকাশ্যে স্থাপিত করা হল রাজভবনের অভিজাত মঞ্চে। (Mumbai)

Related Articles