দেশ

নিরাপত্তা বাহিনীর জিরো টলারেন্সে বড় সাফল্য, ৯ দুষ্কৃতী খতম

১১ নভেম্বর বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছিল আরও ছ’জন কুখ্যাত মাওবাদী।

Truth Of Bengal: ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হল তিন মাওবাদী। রবিবার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ। নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষ হয় তুমালপাড় গ্রামের কাছে। আর তাতে নিহত হয় তিন জন। প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।সুকমা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মিলিশিয়া কমান্ডার ও স্নাইপার বিশেষজ্ঞ মাড়ভি দেবা। পাশাপাশি দুই মহিলা মাওবাদী—পোডিয়াম গঙ্গি ও সোড়ি গঙ্গিও নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) উদ্ধার করেছে একটি .৩০৩ রাইফেল, বিসিজিএল লঞ্চার এবং একাধিক গুলি। এলাকায় এখনও তল্লাশি চলছে, আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১১ নভেম্বর বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছিল আরও ছ’জন কুখ্যাত মাওবাদী। নিহতদের মোট মাথার দাম ছিল ২৭ লক্ষ টাকা। তাদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র অপারেটিভ উর্মিলা এবং বচন্না কুডিয়াম—যিনি গত এক দশকে একাধিক নকশাল হামলার মাস্টারমাইন্ড।বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র যাদব জানান, ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্কের কন্দুলনর ও কাচলারাম গ্রামের জঙ্গলে মুখোমুখি হয় নিরাপত্তাবাহিনী। বচন্না ওরফে কন্না ২০০৮ সালের কংগুপল্লি পুলিশ পোস্ট হামলা এবং ২০১৬ সালের নুকনারপাল ক্যাম্প হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল। তার বিরুদ্ধে ২০ জন গ্রামবাসীকে ‘পুলিশের খবরদাতা’ সন্দেহে খুনের অভিযোগও রয়েছে। বহুবার আইইডি বিস্ফোরণ, গাড়ি ও মোবাইল টাওয়ার পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও যুক্ত ছিল সে।এসপি যাদব বলেন, বচন্নার মৃত্যু মানে এই অঞ্চলে মাওবাদী সন্ত্রাসের এক দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের ইতি।

দীর্ঘদিন ধরে ছত্তিশগড় নকশাল বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পুরোপুরি দমন সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করায় প্রায় প্রতি মাসেই মাওবাদী দমনের বড়সড় সাফল্যের খবর মিলছে। অনেকেই আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরছেন, যদিও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি।সুকমা ও বিজাপুর—উভয় জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিদিনই তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন চলছে।

Related Articles