দেশ

ছত্তিশগড়ে গুলির লড়াই, খতম ৩০ মাওবাদী

Gunfight in Chhattisgarh, 30 Maoists killed

Truth of Bengal: আবারও ছত্তিশগড়। আবুঝামাদ এলাকায় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে চলে সংঘর্ষ। বুধবার এই সংঘর্ষের জেরে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে খতম হল ৩০ জন মাওবাদী। যার মধ্যে রয়েছে শীর্ষ মাও নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসভ রাজ। এই সংঘর্ষ চলাকালীন সময় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন গুরুত্বর জখম হয়েছে বলে খবর।

এদিন সকাল থেকেই নারায়ণপুর, বিজাপুর এবং দান্তেওয়াড়া জেলায় মাওবাদী এবং নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর মধ্যে চলে গুলির লড়াই। আর তাতেই খতম হচ্ছে একের পর এক মাওবাদীরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নিহত মাওবাদীদের কাছে সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি বলে খবর।নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর কাছ থেকেও মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়া।

অন্যদিকে চলতি বছর ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় তেলেঙ্গানা সীমান্তবর্তী কারেগুট্টা পাহাড়ের কাছে জঙ্গলে  নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের চলল সংঘর্ষ। আর তাতেই নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে খতম হয়েছেন  ১৫ জনের বেশি মাওবাদীরা। শুধু তাই নয় জঙ্গি বিরোধী অভিযানে গত ২৪ এপ্রিল কারেগুট্টা পাহাড়ে তিন মহিলা নকশাল নিরাপত্তারক্ষা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। সেইসঙ্গে উদ্ধার হয়  বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য সামগ্রী। বলা বাহুল্য, কয়েকদিন থেকেই ছত্তিশগড়জুড়ে নকশালবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে সেনা। তারমধ্যেই এই হামলার ঘটনা।

উল্লেখ্য,  ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।  এরপরেই বস্তার অঞ্চলে জঙ্গি দমন অভিযানে প্রায় ২৪ হাজার নিরাপত্তা কর্মী যুক্ত হন। ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি), বস্তার ফাইটার্স, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), রাজ্য পুলিশের সমস্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং এর অভিজাত ইউনিট কোবরা সহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীরা এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জন মাওবাদীর।

গ্রেফতার  হয়েছে হাজারেরও বেশি, পাশাপাশি আত্মসমর্পণ করেন ৮৩৭ জন। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের পৃথক এনকাউন্টারে ১৪৬ জন নকশালকে খতম করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজাপুর-সহ সাত জেলা নিয়ে গঠিত বস্তার ডিভিশনে ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে এখন পর্যন্ত শত শত নকশাল আস্তানা ও বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য, ডেটোনেটর, খাদ্য মজুদ এবং নিত্যব্যবহারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো চাপে পড়েছে মাওবাদীরা।

Related Articles