দেশ

Puri Temple: ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে! পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দেওয়ালে ‘জঙ্গি’ হুমকি

এমনকি, সেই হুমকির বার্তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ দিল্লির কথাও উল্লেখ রয়েছে।

Truth Of Bengal: স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন চলছে। সেই আবহেই ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দির (Puri Temple) ভেঙে গুঁড়িয়ে হুমকির বার্তা। মন্দিরের দেওয়ালে লেখা রয়েছে জঙ্গি হামলা হতে পারে। এমনকি, সেই হুমকির বার্তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ দিল্লির কথাও উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

বুধবার মন্দিরের দুই স্থানে এই হুমকিসূচক গ্রাফিতি দেখা যায়। পরিক্রমা মার্গে বুধি মা ঠাকুরানি মন্দিরের দেওয়ালে লেখা ছিল— জঙ্গিরা মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রাফিতিতে কয়েকটি ফোন নম্বরও ছিল, যেগুলিতে ফোন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওড়িয়া ভাষায় আরও কিছু লেখা ছিল, যার বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায়, “তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।” ‘জঙ্গি’ শব্দটি বিশেষভাবে বড় হরফে লেখা ছিল বলে সূত্রের খবর।

পুরীর এসপি পিনাক মিশ্র এই ঘটনা জানতে পেরে বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমাদের কাছে কিছু তথ্য এসেছে। যারা এই হুমকি দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ টিম তৈরি করা হচ্ছে।”

শুধু হুমকির বার্তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের (Puri Temple) আলোকসজ্জাও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদিও যে অংশে এই লেখা পাওয়া গেছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকে। তবুও কীভাবে সকলের চোখ এড়িয়ে এ কাজ করা হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “যখন এভাবে হুমকি লেখা যেতে পারে, তখন নিরাপত্তারক্ষী রেখে লাভ কী?”

পুলিশ সুপার পিনাক মিশ্রের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্দিরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শ্রীমন্দির চত্বরের নজরদারি ব্যবস্থা ও সিসিটিভি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বহুবার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার তরফে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের সুপারিশ করা হলেও, স্থানীয়দের দাবি, মূল ব্যবস্থাপনাতেই ত্রুটি রয়েছে, এবং অধিকাংশ সিসিটিভিই অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র স্থান এই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে (Puri Temple) প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভিড় জমান। সেই পুণ্যক্ষেত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ছড়িয়ে দিয়েছে প্রবল শোরগোল ও উদ্বেগ।

Related Articles