প্রখর দাবদাহ মোকাবিলায় দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
এই তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলা করা এবং সুস্থ থাকার নানা টিপস দিয়ে বুধবার নিজের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।
Truth of Bengal: ভয়ংকর দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। রাজধানী দিল্লির তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করে গিয়েছে, যার জেরে জারি করতে হয়েছে হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert)। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১৪ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখেনি দেশবাসী। দেশের এই গুরুতর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে একগুচ্ছ জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রখর এই গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও ওআরএস (ORS) খাওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিক এবং অবলা পশু-পাখিদের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
देश के अलग-अलग हिस्सों में तापमान लगातार बढ़ रहा है और इसके साथ ही दैनिक जीवन में गर्मी से होने वाली कई कठिनाइयां भी बढ़ रही हैं। मैं सभी देशवासियों से आग्रह करता हूं कि जितनी अधिक सावधानी बरत सकें, अवश्य बरतें। कृपया स्वयं को हाइड्रेटेड रखें, घर से बाहर निकलते समय पानी साथ रखें।…
— Narendra Modi (@narendramodi) May 27, 2026
এই তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলা করা এবং সুস্থ থাকার নানা টিপস দিয়ে বুধবার নিজের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা ও অস্বস্তি। এই প্রখর গরম আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর। তাই দেশের সমস্ত নাগরিকের কাছে আমার বিনীত আবেদন, আপনারা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন। বেশি বেশি করে জল পান করুন এবং জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরনোর সময় অবশ্যই জলের বোতল সঙ্গে রাখুন। নিজে পানের পাশাপাশি অন্যদেরও জল দিয়ে সাহায্য করুন।’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চরম প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে আমাদের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের জেরে তৈরি হওয়া শারীরিক অসুস্থতা এবং তা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় বাতলে প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘তাপজনিত অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলি হলো— হঠাত মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা। আপনার আশপাশে কেউ এই ধরনের সমস্যায় অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে অবহেলা না করে অবিলম্বে কোনও শীতল ও ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যান। তাঁকে জল কিংবা ওআরএস খাইয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করুন। এই তীব্র গরম মূলত শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাঁরা বাধ্য হয়ে রোদের মধ্যে বাইরে কাজ করেন, তাঁদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে কোনওভাবেই উপেক্ষা করবেন না, কারণ এটিই পরবর্তীতে মারাত্মক হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে।’ এর পাশাপাশি নিজের বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের ফোন করে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার এবং তাঁদের প্রখর দাবদাহে বাড়ির বাইরে না বেরিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন মোদি।
মানুষের সুরক্ষার পাশাপাশি এই চরম গরমে চারপাশের পশু-পাখিদের প্রতিও সমানভাবে যত্নশীল হওয়ার বার্তা শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। দেশবাসীর কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, এই কঠিন গরমে আমাদের চারপাশে থাকা অবলা পশু-পাখিদের দিকেও যথা সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। আপনার বাড়ি, বারান্দা, ছাদ, দোকান কিংবা অফিসের বাইরে রাখা সামান্য একবাটি জলও এই তৃষ্ণার্ত পাখিদের জন্য জীবনরক্ষাকারীর ভূমিকা নিতে পারে।’ এ ছাড়া এই প্রবল গরমের দিনগুলিতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত যতটা সম্ভব বাড়ির ভেতরে থাকার, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরার এবং প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত জলপানের জন্য দেশবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।






