রাজ্যের খবর

‘লক্ষ্মী’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা’—কারা পাবেন সুবিধা? আজ থেকেই ফর্ম ফিলআপ শুরু, এসআইআরে বাদের তালিকা ঘিরে নয়া হিসেব

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর বাদের তালিকা

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো মহিলাদের জন্য বড়সড় আর্থিক সহায়তার প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল নবান্নে। বুধবার থেকেই এই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম বিলির কাজ শুরু করার পাশাপাশি উপভোক্তা বাছাইতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার এই নতুন প্রকল্পে মহিলারা আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রকল্প চালুর মুখে যোগ্য ও অযোগ্য আবেদনকারীদের নিখুঁত হিসেব বের করাটাই এখন রাজ্য সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর বাদের তালিকা। নবান্ন সূত্রে খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা গোড়াতেই এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ চলে যাচ্ছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে কমবেশি ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন মহিলার নাম অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আর এর জেরে রাজ্য সরকারের রাজকোষে প্রতি মাসে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ২ কোটিরও বেশি মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। নতুন সরকার আসার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের মনে এই নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, তাঁরা এই টাকা পাবেন কি না। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার মঙ্গলবারই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, যতদিন না নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পুরোপুরি চালু হচ্ছে, ততদিন পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা আগের মতোই টাকা পেতে থাকবেন। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট ঝাড়াই-বাছাই পর্ব শেষ করে যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হবে।

তবে এই যাচাইয়ের কাজটি প্রশাসনের কাছে খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতোই অত্যন্ত জটিল। বর্তমানে এসআইআরে বাদ পড়া মোট ৫৮ লক্ষ নামের একটি তালিকা খতিয়ে দেখছেন জেলা স্তরের আধিকারিকরা, যার মধ্যে মহিলার সংখ্যাই প্রায় ২৯ লক্ষ। এই তালিকায় থাকা নামগুলি ছাড়াও জেলা ট্রাইব্যুনালগুলিতে এখনও যাঁদের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদের ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাদের তালিকায় চিহ্নিত সাড়ে ৫ লক্ষের সিংহভাগ মহিলাই মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা।

নতুন প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণে জেলা আধিকারিকরা এখন দিনরাত এক করে উপভোক্তাদের নাম, ভোটার কার্ডের তথ্য এবং জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট ডিজিটাল পোর্টালটি মিলিয়ে দেখছেন। মৃত উপভোক্তাদের নাম যাতে দ্রুত তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা যায়, তার জন্যই মূলত এই পোর্টালের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রকৃত দুঃস্থ ও যোগ্য মহিলাদের হাতে ৩ হাজার টাকার সরকারি অনুদান পৌঁছে দিতে নবান্ন এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে চলেছে।