মাত্র ৫ দিনেই উধাও ‘বরফানি বাবা’! অমরনাথের শিবলিঙ্গ গলে যাওয়ার নেপথ্যে কি বড় কোনো অশনি সংকেত?
কেউ একে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফল বলে মনে করছেন, আবার কেউ তদন্তের দাবিও তুলেছেন
Truth of Bengal: মাত্র পাঁচদিন। ৫৭ দিনের অমরনাথ তীর্থযাত্রা চলাকালীন এত দ্রুত গলে গেল ‘বাবা বরফানি’-র প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গ। এই ঘটনাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যেমন হতাশা ছড়িয়েছে, তেমনই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ একে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফল বলে মনে করছেন, আবার কেউ তদন্তের দাবিও তুলেছেন। যদিও এই ঘটনার জেরে অমরনাথ যাত্রা বন্ধ হচ্ছে না। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তীর্থযাত্রা চলবে। চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়েছে ৩ জুলাই। প্রতি বছরের মতোই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ ভক্ত দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে অমরনাথ গুহায় পৌঁছচ্ছেন। সেখানে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গুহার ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ে জমাট বেঁধে তৈরি হয় বরফের শিবলিঙ্গ, যা ভক্তদের কাছে ‘বাবা বরফানি’ নামে পরিচিত।
সূত্রের খবর, গত ২৩ মে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তোলা ছবিতে বরফের শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল প্রায় সাত ফুট। ৩ জুলাই যাত্রা শুরুর সময়ও সেটি পাঁচ ফুটের বেশি ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই দ্রুত গলতে শুরু করে শিবলিঙ্গ। ৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বরফ গলে যায় এবং ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে গুহায় পৌঁছে বরফের শিবলিঙ্গের দর্শন না পেয়ে হতাশ হয়েছেন বহু তীর্থযাত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (পিডিএফ)-এর নেত্রী ইলতিজা মুফতি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে গুহার বর্তমান অবস্থার ছবি প্রকাশ করে তীর্থযাত্রা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ভক্তের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। সেই নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বরফের শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হতে পারে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। প্রতি বছরই তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নির্ভর করে শিবলিঙ্গের আকার ও স্থায়িত্বে পরিবর্তন ঘটে। চলতি বছরের অতিরিক্ত গরম সেই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর করেছে বলেই তাঁদের ধারণা।


