ডিউটি শেষে নিশ্চিন্ত ঘুম চাই, ভোটের বাজারে ‘বালিশ’ হাতে মাস্টারমশাই!
কাঁধে মুড়ি-মশারি, হাতে বালিশ! চুঁচুড়ার বুথে পৌঁছালেন ঘাটালের শিক্ষক, অভিনব ছবি ভাইরাল
সৌগত রায়, হুগলি: ভোটের ময়দান মানেই টানটান উত্তেজনা, রাজনৈতিক লড়াই আর হাজারো সিসিটিভি-র নজরদারি। কিন্তু এই যুদ্ধের আবহেও এক স্কুল শিক্ষকের ‘সঙ্গী’ হয়ে উঠল তাঁর আদরের বালিশ! বাড়ি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে চুঁচুড়ায় ভোটের ডিউটি করতে এসেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জগন্নাথ কুণ্ডু। পিঠে ভারী ব্যাগ, হাতে মশারি, মুড়ি আর শসার ঝোলা, কিন্তু সবার নজর কেড়েছে তাঁর হাতের সেই যত্ন করে আনা বালিশটি।
ঘাটের শোভাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগন্নাথ বাবু প্রথম দফায় সবং-এ ডিউটি সেরে এখন শেষ দফার জন্য হুগলিতে হাজির। ভোট কর্মীদের জীবন যে কতটা কষ্টের, তা তাঁর প্রস্তুতি দেখলেই বোঝা যায়। জগন্নাথবাবু হাসিমুখে জানালেন, “ভোটের ডিউটি মানেই টিম ওয়ার্ক। এখানে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকতে হয়, মানসিক চাপও প্রচুর। আগের রাতে একটু ভাল ঘুম না হলে পরের দিন শরীর দেবে না। আর বালিশ ছাড়া আমার একদম ঘুম আসে না।”
নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তার মাঝেও কর্মীদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত এই শিক্ষক। তাঁর মতে, দলের একজনের শরীর খারাপ হওয়া মানে পুরো টিমের ওপর চাপ পড়া। “কেউ যেন না বলতে পারে যে উনি পারছেন না, তাই নিজের যত্ন নিজেই নিই।”, সাফ কথা তাঁর। ২৩ তারিখ সবং-এ ভোটের কাজ করে ২৪ তারিখ ভোরে বাড়ি ফিরেছিলেন, ক্লান্ত শরীর নিয়েও কর্তব্যের ডাকে ফের চুঁচুড়ায়। শুধু বালিশই নয়, ব্যাগে মুড়ি-চানাচুর আর মশারির বন্দোবস্তও রেখেছেন আঁটসাঁট ভাবে।
রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী জগন্নাথবাবু। প্রথম দফার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করছেন, কমিশন যেভাবে কড়া হাতে রাশ ধরেছে, তাতে এবার রক্তপাতহীন ভোট সম্ভব। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ভোট শান্তিতে হলে বাড়ির লোকও নিশ্চিন্ত থাকে। রাজনৈতিক দলাদলি বা হুমকির উর্ধ্বে উঠে জগন্নাথবাবুর মতো এই শান্তিকামী ‘বালিশ-বিপ্লবী’দের হাত ধরেই সচল থাকে গণতন্ত্রের চাকা।






