Nitish Kumar: দশমবারের জন্য শপথ নিয়ে দেশের দীর্ঘ মেয়াদী মুখ্যমন্ত্রীদের ‘শীর্ষ তালিকায়’ বিহারের ‘সুশাসন বাবু’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ এনডিএ-র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে শপথ নেন জেডিইউ নেতা নীতীশ কুমার।
Truth of Bengal: বৃহস্পতিবার দশমবারের জন্য শপথ নিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। ৭৪ বছর বয়সে প্রায় ১৯ বছরের শাসনকাল পার করে দেশজুড়ে দীর্ঘ মেয়াদি মুখ্যমন্ত্রীদের শীর্ষ তালিকায় জায়গা পাকা করলেন তিনি।পাটনার গান্ধি ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ এনডিএ-র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে শপথ নেন জেডিইউ নেতা নীতীশ কুমার। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএর বিপুল জয়ের পর ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরে এলেন তিনি। মোট ২৪৩টির মধ্যে এনডিএ জিতেছে ২০২টি আসন বিজেপি ৮৯, জেডিইউ ৮৫। বিপরীতে আরজেডি পেয়েছে মাত্র ২৫টি, কংগ্রেস ৬ এবং বামদল গুলি ৩টি আসন।১৯৫১ সালে বিহারের বক্তিয়ারপুরে জন্ম নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ‘জেপি আন্দোলন’-এর সময়। ১৯৭৭ সালে প্রথম ভোটে লড়লেও জয়ের মুখ দেখেন ১৯৮৫-তে। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তাঁর দলবদল তাঁকে দিয়েছে ‘পল্টু রাম’ উপাধি, আবার প্রশাসনিক সাফল্য তাঁকে করেছে জনপ্রিয় ‘সুশাসন বাবু’।২০০০ সালে মাত্র ৭ দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নীতীশ ২০০৫ থেকে প্রায় বিরতিহীনভাবে বিহার শাসন করছেন। এবার দশমবার শপথ নিয়ে তিনি দেশের দীর্ঘতম মেয়াদি মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় প্রবেশ করলেন আরও উপরে।
ভারতের রাজনীতিতে কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দীর্ঘ শাসনকাল দিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে সিকিমের পবন কুমার চামলিং। তিনি টানা পাঁচটি মেয়াদে প্রায় ২৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত। তার নেতৃত্বে সিকিম উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার রোল মডেলে পরিণত হয়েছিল। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। তিনি ২৪ বছরের (২০০০–২০২৪) বেশি সময় ধরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তিনি এখনও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।ভারতের বাম রাজনীতির অন্যতম মুখ জ্যোতি বসু ২৩ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান (১৯৭৭–২০০০)।অরুণাচল প্রদেশের গেগং আপাংও দুই দফায় মোট ২২ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০০৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি রাজ্যকে নেতৃত্ব দেন। মিজোরামের লালথানহাওলা তিন দফায় মোট ২২ বছর রাজ্যকে নেতৃত্ব দেন।হিমাচল প্রদেশের বীরভদ্র সিং চার দফায় ক্ষমতায় থেকে মোট ২১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।ত্রিপুরার মানিক সরকার, টানা ১৯ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন (১৯৯৮–২০১৮)।
তার নেতৃত্বে ত্রিপুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে বড় সাফল্য অর্জন করে।বিহারের নীতীশ কুমারও এখন সেই তালিকায় নিজের রেকর্ড তৈরি করেছেন। ২০০০ সালে মাত্র সাত দিনের জন্য প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও, ২০০৫-এর পর থেকে তার রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ বেড়েছে। বর্তমানে তিনি টানা প্রায় ১০ম মেয়াদে প্রবেশ করতে চলেছেন। মোট মিলিয়ে তিনি ১৯ বছরেরও বেশি সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।তামিলনাড়ুর কালাইগনার এম. করুণানিধি চার দফায় মোট ১৮ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পাঞ্জাবের প্রবীণ নেতা প্রকাশ সিং বাদলও চার দফায় মোট ১৮ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।এনডিএর এবারের বিপুল জয়ে নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক শক্তি আরও দৃঢ় হল। দশমবার শপথ নিয়ে তিনি শুধু বিহারের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসেও এক নতুন অধ্যায় লিখলেন। দীর্ঘ শাসনকাল এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতে তিনি এখন দেশের শীর্ষ দীর্ঘ মেয়াদি মুখ্যমন্ত্রীদের অন্যতম।






