“পারলে আর জি করের সত্যিটা সিবিআই-কে জানান!”, কাকলি-শর্মিলাকে বেনজির চ্যালেঞ্জ কল্যাণের
“বিজেপি এই কলঙ্কিত ও নারদার ঘুষখোরদের নেবে না!”, দলবদলুদের ‘সুখের পায়রা’ বলে তীব্র আক্রমণ প্রবীণ সাংসদের
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ক্ষমতা বদলের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২৮ বছরের পরিশ্রমে গড়া দল আদি তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা ও কলকাতা পুরসভার পর গত সোমবার দিল্লিতে লোকসভার সংসদীয় দলও হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। ২০ জন সাংসদ একযোগে এনডিএ ব্লকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আর এই চরম বিপর্যয়ের মাঝেই এবার ‘বিদ্রোহী’ ও দলবদলু সতীর্থদের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় ময়দানে নামলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। পেশায় চিকিৎসক দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ডঃ শর্মিলা সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি আর জি কর (RG Kar Case) প্রসঙ্গ টেনে যে মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
“নারদার সব রিপোর্ট মোদির কাছে আছে, বিজেপি আপনাদের নেবে না!”
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের ‘সুখের পায়রা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “১৫ বছর ধরে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই এখনও এরা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে পাশে ঘুরছে। ক্ষমতা ছাড়া এরা এক মুহূর্ত বাঁচতে পারবে না। এখন মোদি আপনাদের নেতা হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বিজেপি এই কলঙ্কিত লোকেদের দলে নেবে না। মোদি-অমিত শাহরা এদের ভাল করেই চেনেন। কার বিরুদ্ধে নারদার কী রিপোর্ট আছে, কে কোথায় ঘুষ খেয়েছে, সব তথ্য ওদের কাছে জমা আছে।”
বিদ্রোহীদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, “কাকলি ঘোষদস্তিদার ছাড়া এই তালিকায় যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ২০১১ সালের পর দলে এসেছেন, কোনও লড়াই করেননি। আর তারকারা তো ভিনদেশি তারা! অনুব্রত মণ্ডল (কেষ্ট) না থাকলে শতাব্দী রায় বীরভূমে কোনওদিন জিততে পারতেন না। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন।”
আর জি কর নিয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ, উস্কে গেল পুরনো বিতর্ক
এর পরেই আর জি করের অভয়া কাণ্ড এবং সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে অভয়ার মা রত্না দেবনাথের বিপুল ভোটে জয়লাভের প্রসঙ্গ তোলেন কল্যাণ। আর জি কর ইস্যুতে বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের যে পুরনো অভিযোগ ছিল, কল্যাণের এদিনের মন্তব্য যেন পরোক্ষভাবে সেই বিতর্ককেই আবার উস্কে দিল। দুই ডাক্তার সাংসদকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আর জি কর ইস্যুতে এই কাকলি আর শর্মিলা কবে রাস্তায় নেমেছিলেন? আমি নিজে হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, তাঁর মা তো ওকে নিয়ে রাজনীতি করলেন, এখন এই বিদ্রোহীরাও রাজনীতি করছে। আমি কাকলি আর শর্মিলাকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ করছি, আপনাদের এতই যদি ক্ষোভ থাকে, তবে আর জি করের দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল, তা সিবিআই-এর (CBI) কাছে গিয়ে সত্যি সত্যি বলুন না কেন!”
তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ কিছুটা পরস্পরবিরোধী বলে মনে করলেও, এর ভেতরে গভীর কোনও রহস্য রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সমস্ত সিবিআই তদন্তের পরেও কোন অঙ্কে অভয়ার মা বিজেপিতে যোগ দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে চরম দলবদলের বাজারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, “আপনাদের কাছে টাকা, ক্ষমতা, মুখ্যমন্ত্রী আর এজেন্সি থাকতে পারে, আমার কাছে আছে মা-মাটি-মানুষ। আমি নেত্রীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”






