দেশ

ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াবে ‘জ্যাভলিন’! আমেরিকা থেকে আসছে ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র

গত সাড়ে তিন বছরে ইউক্রেন যুদ্ধে এই জ্যাভলিন বারবার নিজের মহাশক্তির পরিচয় দিয়েছে।

অলিম্পিক মঞ্চে জ্যাভলিন ছুঁড়ে সোনা জিতেছিলেন নীরজ চোপড়া। তার পর থেকেই ‘জ্যাভলিন’ শব্দটি ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে গর্বের। কিন্তু এখন ভারতের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও কাঁপছে আরেক ‘জ্যাভলিন’-এর ভয়ে—মার্কিন নির্মিত ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য। শুল্ক-সংঘাতের উত্তাপের মধ্যেই আমেরিকা থেকে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কথা আগেই জানা গিয়েছিল। এবার সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল মার্কিন প্রশাসন।

বুধবার দুইটি পৃথক বিবৃতিতে ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি (DSCA) ঘোষণা করেছে যে ৯২.৮ মিলিয়ন ডলারের ভারত-মার্কিন অস্ত্রচুক্তি অনুমোদন পেয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছিল, সেনাবাহিনী ১২টি লঞ্চার এবং ১০৪টি জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের অফিসিয়াল নাম—FGM-148 Anti-Tank Javelin Missile।

গত সাড়ে তিন বছরে ইউক্রেন যুদ্ধে এই জ্যাভলিন বারবার নিজের মহাশক্তির পরিচয় দিয়েছে। পুতিন সেনাবাহিনীর T-72 ও T-90 ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে জেলেনস্কির বাহিনী সবচেয়ে বেশি ভরসা করেছে এই অস্ত্রের উপর। DSCA–র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রথম ধাপে ৪৫.৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ভারত জ্যাভলিন FGM-148 ক্ষেপণাস্ত্র, ২৫টি হালকা ওজনের কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (LWCLU) অথবা জ্যাভলিন ব্লক–১ কমান্ড লঞ্চ ইউনিট পেতে চলেছে। ধাপে ধাপে সেনার হাতে পৌঁছবে ১২টি লঞ্চার ও ১০৪টি মিসাইল।

জ্যাভলিনের কার্যকারিতা যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ। একজন সৈনিক সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারেন। লঞ্চারটি কাঁধে রেখে নিখুঁত লক্ষ্যে জ্যাভলিন নিক্ষেপ করা যায়—ঠিক যেমন ‘স্ট্রিংগার’ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। একটি জ্যাভলিনের ওজন প্রায় ২৩ কেজি, যার মধ্যে রয়েছে সাড়ে আট কেজির বিস্ফোরক। লঞ্চারের ওজন সাধারণত ৬.৪ কেজি। প্রায় ২,৫০০ মিটার পাল্লার এই অস্ত্র ধীরগতির হেলিকপ্টার ধ্বংস করতেও সক্ষম।

বুধবার DSCA জানিয়েছে, এই চুক্তি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বিরোধী পক্ষের কটাক্ষ—প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ আহ্বানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।