ঘূর্ণিঝড়–বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কার পাশে ভারত, শুরু ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় উত্তরমুখী হওয়ার আগে শ্রীলঙ্কার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
Truth Of Bengal: ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহ–র আঘাতে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়াতে বিশেষ মানবিক উদ্যোগ ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ শুরু করল ভারত। গত ২৭ নভেম্বর ভারি বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ত্রাণ পাঠাল কেন্দ্র। শনিবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিশেষ উড়ান প্রায় ১২ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কলম্বোয় পৌঁছেছে। তাতে ছিল তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী। এর আগে শুক্রবারও ভারত জরুরি ত্রাণ পাঠায়। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর জানান, এই সহায়তা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়াও শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস উদয়গিরি থেকে প্রথম দফায় হস্তান্তর করা হয়েছে ৪.৫ টন শুকনো খাবার ও ২ টন তাজা রেশন, যার সঙ্গে ছিল দুগ্ধজাত দ্রব্য, বেকারি সামগ্রী, রেডি-টু-ইট খাবার ও পানীয় জল।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় উত্তরমুখী হওয়ার আগে শ্রীলঙ্কার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ১২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজ প্রায় ১৩০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৪,০০০-এর বেশি মানুষ।বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে ভূমিধসের কারণে। বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্কুল-কলেজ ও সরকারি ভবনে।পোলোনারুয়া জেলার এক সেতুতে আটকে পড়া ১৩ জনকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। জলমগ্ন হওয়ায় ব্যাহত হয়েছে বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ, অন্তত ১৫টি আন্তর্জাতিক উড়ান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে তিরুবনন্তপুরম ও কোচিতে।শ্রীলঙ্কা সরকার ত্রাণ–উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সেনা, নৌ ও বায়ুসেনাকে একযোগে কাজে লাগিয়েছে। নৌকায় জলবন্দি মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হচ্ছে, আর সামরিক হেলিকপ্টারে পৌঁছনো হচ্ছে সেই সব দুর্গম এলাকায় যেখানে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের আশঙ্কা—এ বছরের এই বন্যার প্রকোপ ২০১৬ সালের মারাত্মক পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যে বছর ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।প্রতিবেশী দেশের সংকটে ভারত প্রথম দিন থেকেই সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স–হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহর কারণে যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহত ও ঘরছাড়া মানুষদের দ্রুত সেরে ওঠার প্রার্থনা করি। ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’–র মাধ্যমে ভারত প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পাঠাচ্ছে এবং আরও পাঠাতে প্রস্তুত। শ্রীলঙ্কার বিপদে সবসময় পাশে আছে ভারত।
শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডও।মালয়েশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে মৃত্যু হয়েছে ৯৪ জনের, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাংশে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৫ জন। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন ২৫৪ জনের মৃত্যু ঘটে। বর্তমান বিপর্যয় সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফের জাগিয়ে তুলছে।ভারি বর্ষণ ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া শ্রীলঙ্কার পাশে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ভারত যে এ বারও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’।






