কানাডার সঙ্গে বন্ধুত্বের নয়া ইনিংস! মোদি-কারনি সাক্ষাতে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি
মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে
Truth of Bengal: দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন সরিয়ে রেখে ভারত ও কানাডার মধ্যে বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সোমবার ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। দিল্লির এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতাপত্র বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হলো ভারতকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করার বিষয়ে কানাডার সম্মতি। সিভিল নিউক্লিয়ার এনার্জি বা অসামরিক পারমাণবিক শক্তির চাহিদা মেটাতে কানাডার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, কেবল জ্বালানি নয়, প্রতিরক্ষা খাত থেকে শুরু করে ক্রিটিক্যাল মিনারেল, হাইড্রোকার্বন, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং এনার্জি স্টোরেজের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। প্রযুক্তি ও শিক্ষার প্রসারেও দুই রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ জোর দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটার, সুপার কম্পিউটার এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, কৃষি ও উদ্ভাবন নিয়ে কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও জানান যে, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভারতীয় ক্যাম্পাস খোলার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত ও কানাডার এই নতুন সমীকরণ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিও। তিনি মন্তব্য করেন যে, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে যে পরিমাণ গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, তা গত দুই দশকের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, এটি কেবল ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো নয়, বরং নতুন উৎসাহ ও দূরদর্শিতা নিয়ে এক শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।





