দেশ

১০ দিনে চারবার! ফের মহার্ঘ জ্বালানি, কলকাতায় কত হল পেট্রল-ডিজেলের দাম?

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের চরম মাশুল দিচ্ছে ভারত! এক লাফে আকাশছোঁয়া পেট্রল-ডিজেল, ভাঙল সব রেকর্ড

Truth of Bengal: বিশ্ব রাজনীতির পারদ চড়তেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ল সাধারণ ভারতীয়দের পকেটে। শনিবারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই দেশজুড়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। জ্বালানির এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ডিজেলের দামও সেখানে ১০০ টাকার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

নতুন তালিকার পর দেশের রাজধানীতে প্রতি লিটার পেট্রলে ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলে ২.৭১ টাকা বেড়েছে। এর ফলে দিল্লিতে এক লিটার পেট্রল কিনতে এখন পকেট থেকে খসছে ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৫.২০ টাকায়।

তিলোত্তমায় রেকর্ড দাম, মুম্বই-চেন্নাইয়েও হাহাকার

মেগা সিটির তালিকায় জ্বালানির দামে সবাইকে টেক্কা দিচ্ছে তিলোত্তমা কলকাতা। শহরে লিটার প্রতি ২.৮৭ টাকা বৃদ্ধির পর সোমবার পেট্রলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ টাকা। পাশাপাশি ২.৮০ টাকা বেড়ে কলকাতার বাজারে ডিজেল মিলছে ৯৯.৮২ টাকায়। পিছিয়ে নেই দেশের বাকি প্রান্তও। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে পেট্রলের দাম ২.৭২ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১১.২১ টাকা এবং চেন্নাইতে ২.৪৬ টাকা বাড়ায় নতুন দাম ১০৭.৭৭ টাকা। এই দুই শহরে ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৯৭.৮৩ টাকা এবং ৯৯.৫৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সব মিলিয়ে গত মাত্র ১০ দিনেই আমজনতার পকেট থেকে পেট্রল বাবদ অতিরিক্ত ৭ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন এই আকস্মিক তেলের সংকট?

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের যোগানে বড়সড় টান পড়েছে।

তেল সংস্থাগুলির বিপুল ক্ষতি ও মোদির সতর্কবার্তা

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে তেল সাশ্রয় করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। দেশের আর্থিক ভান্ডার সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা না-কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। ইন্ডিয়ান অয়েল ও ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে তেল কিনেও তারা এতদিন দেশের বাজারে দাম বাড়ায়নি। যার ফলে দৈনিক প্রায় ১০০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল তাদের। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়াতেই এই মূল্যবৃদ্ধি। যদিও সংস্থাগুলির দাবি, দেশে তেলের কোনও স্থায়ী ঘাটতি নেই এবং এই সমস্যা সাময়িক।

তবুও আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ, কারণ তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিমধ্যেই দুধ ও রুটির মতো জরুরি খাদ্যসামগ্রীর দাম বাজারে বাড়তে শুরু করেছে।