Himachal Floods: হিমাচলে মেঘভাঙা বৃষ্টি, মৃত ১০
Severe cloudbursts and flash floods in Himachal Pradesh's Mandi district leave 10 dead and 34 missing.
Truth Of Bengal: পর পর মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কবলে চরম বিপর্যয়ের মুখে হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি জেলা (Himachal Floods)। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু, বহু মানুষ আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরকে খুঁজতে শুরু হয়েছে তল্লাশি। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে গোটা এলাকা।
[আরও পড়ুন: Akash Deep: এজবাস্টন টেস্টে দলে সুযোগ পেলেন বাংলার আকাশদীপ]
রাজ্যজুড়ে একদিনেই ১১ বার মেঘভাঙা বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও একটি বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। যার অধিকাংশই মাণ্ডি জেলায়। সোমবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার পর্যন্ত মাণ্ডিতে ২৫৩.৮ মিমি অতিভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে জোরকদমে চলছে উদ্ধার কাজ। গোহার, করসোগ এবং থুনাগ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। গত ৩২ ঘণ্টায় মাণ্ডি থেকে ৩১৬ জন এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলা মিলিয়ে মোট ৩৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হমিরপুরে ৫১ জন এবং চাম্বায় ৩ জন উদ্ধার হয়েছেন।
রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হিমাচলে ২৪টি বসতবাড়ি, ১২টি গবাদি পশুর ঘর, একটি সেতু এবং বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে মোট ৪০৬টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে যার মধ্যে মাণ্ডিতে ২৪৮টি। পাশাপাশি অচল হয়ে পড়েছে ৯৯৪টি ট্রান্সফর্মার। মাণ্ডির সব বড় নদী ও জলধারা জলে ভরে উঠেছে। পান্ডোহ বাঁধে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে ২৯৪১ ফুট ছুঁতে চলেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ইতিমধ্যে বাঁধ থেকে ১.৫ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। চণ্ডীগড়-মানালি ফোর লেন একাধিক জায়গায় বন্ধ—নাইন মাইলস, দ্বাদা, ঝালোগি ও বনালায়। বিকল্প কামান্ড-কাতৌলা-বাজৌরা রুটে শুধুমাত্র হালকা গাড়ি চলছে (Himachal Floods)।
[আরও পড়ুন: Vaccine Safety: তরুণদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সঙ্গে কোভিড টিকার কোনও যোগ নেই: জানাল ICMR]
হমিরপুর জেলার বল্লা গ্রামে বাড়তে থাকা বিয়াস নদীর জলে প্লাবিত হয় নিচু এলাকা। কাঁচা ঘরবাড়ি, জল লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাণ্ডি ও হমিরপুরে মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তরফে জানান হয়েছে, কাংড়া, সোলান ও সিরমৌর জেলায় ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চাম্বা, হমিরপুর, মাণ্ডি, শিমলা, সোলান ও সিরমৌর এই ছয় জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে বাকি রাজ্যে ‘হলুদ’ সতর্কতা জারি থাকবে ৫ জুলাই পর্যন্ত। হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুক্কু জানিয়েছেন, ২০ জুন থেকে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে আনুমানিক ৫০০ কোটির ক্ষতি হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েক বছরে মেঘভাঙার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে নদীর ধারে বা ড্রেনের পাশে না যেতে। একথায় বলা যায়, বর্তমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিমাচলে (Himachal Floods)।






