১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশবাসীকে কাঁদিয়ে চিরঘুমের দেশে হরিশ রানা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত ১৪ মার্চ তাঁকে AIIMS-এর ড. বি আর আম্বেদকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
Truth of Bengal: দীর্ঘ ১৩ বছরের অবিরাম যন্ত্রণার অবশেষে সমাপ্তি ঘটল। মঙ্গলবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS Delhi)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হরিশ রানা (৩১)। ভারতের চিকিৎসা ইতিহাসে প্রথমবার আইনি পথে ‘পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু’ বা ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’-র মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির মৃত্যু সম্পন্ন হল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর লাইফ সাপোর্ট এবং কৃত্রিম পুষ্টির ব্যবস্থা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ থাকা এই রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া কঠোর নজরদারির মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত ১৪ মার্চ তাঁকে AIIMS-এর ড. বি আর আম্বেদকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়রা, শেষবারের মতো তাঁকে বিদায় জানান তাঁরা।
১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশবাসীকে কাঁদিয়ে চিরঘুমের দেশে হরিশ রানা pic.twitter.com/5pVrplRcor
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) March 24, 2026
অ্যানাস্থেশিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। নিউরোসার্জারি, অঙ্কো-অ্যানাস্থেশিয়া, প্যালিয়েটিভ মেডিসিন ও সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এই দলে ছিলেন।
মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ১৫ মার্চ থেকে তাঁর তরল খাদ্য বন্ধ করা হয় এবং ১৭ মার্চ থেকে জল সরবরাহও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়। এরপরও আশ্চর্যজনকভাবে তিনি আরও কয়েকদিন স্থিতিশীল অবস্থায় বেঁচে ছিলেন বলে জানা যায়।
চিকিৎসকরা জানান, ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ থাকায় তিনি কোনও শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিলেন না। তবে যন্ত্রণাহীন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল।
হরিশ রানা ছিলেন পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-টেক ছাত্র। ২০১৩ সালে এক দুর্ঘটনায় চারতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় চলে যান এবং দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কৃত্রিম পুষ্টি ও লাইফ সাপোর্টে বেঁচে ছিলেন।
গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক রায় দিয়ে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’-র অনুমতি দেয় এবং AIIMS-কে নির্দেশ দেয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করার।
অবশেষে সব আইনি ও চিকিৎসাগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁর জীবনাবসান ঘটে। হরিশ রানার এই মৃত্যু ভারতের চিকিৎসা ও আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।




