দেশ

১৩ বছরের ‘নরকযন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি! গাজিয়াবাদের যুবককে ঐতিহাসিক ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর’ অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ওই যুবক ভেজিটেটিভ স্টেটে বা স্থবির অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন, যেখানে তাঁর শারীরিক উন্নতির কোনো আশাই অবশিষ্ট ছিল না।

Truth of Bengal: ১৩ বছরের দীর্ঘ যন্ত্রণা আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্তে গাজিয়াবাদের এক যুবককে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষভাবে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ওই যুবক ভেজিটেটিভ স্টেটে বা স্থবির অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন, যেখানে তাঁর শারীরিক উন্নতির কোনো আশাই অবশিষ্ট ছিল না। ৩২ বছর বয়সি হরিশ রাণার বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বুধবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি প্রদান করেছে।

File:Supreme Court of India 01.jpg - Wikimedia Commons

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হরিশ রাণা তাঁর পেয়িং গেস্ট আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর শরীর অসাড় হয়ে যায় এবং তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় আক্রান্ত হন। বেঁচে থাকার জন্য তাঁর গলায় ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব এবং খাবারের জন্য PEG টিউব লাগানো ছিল। টানা এক দশক বেশি সময় ধরে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। ছেলের এই করুণ অবস্থা দেখে এবং নিজেদের বার্ধক্যের কথা চিন্তা করে তাঁর বাবা-মা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, তাঁদের অবর্তমানে ছেলের দেখাশোনা করার আর কেউ থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ লাইফ এদিন সাফ জানিয়েছে যে, হরিশের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা যখন কার্যত শূন্য, তখন তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হোক। আদালতের নির্দেশে দিল্লি এইমস কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরিশকে নিজেদের অধীনে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্ট সরানোর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে। একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতেই আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

Health ministry comes up with new draft guidelines on passive euthanasia, ETHealthworld

এই রায়ের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছে। প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে একটি নির্দিষ্ট আইন আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রকে। হরিশের এই ঘটনা মানবিকতা এবং আইনের এক জটিল সমীকরণকে সামনে নিয়ে এল, যেখানে জীবনের অধিকারের পাশাপাশি যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর অধিকার নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

Related Articles