পদত্যাগের দাবির মাঝেই বিপাকে জ্ঞানেশ কুমার! খুলল ২০ বছরের পুরনো মৃত্যুর তদন্ত ফাইল
দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের মাঝেই বড় ধাক্কা! কেরলে চালু হচ্ছে জ্ঞানেশের পুরনো ভিজিল্যান্স কেস!
Truth of Bengal: পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই সারা দেশজুড়ে উত্তাল রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি। ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর রাজপথ স্তব্ধ করে দেওয়া বিক্ষোভ থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযান, চাপের পারদ যখন চরম সীমায়, ঠিক তখনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের সামনে হাজির হল আরও এক নতুন আইনি সংকট। তাঁর বিরুদ্ধে ২০ বছর আগের এক মারাত্মক দুর্নীতি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দিয়েছে কেরলের কংগ্রেস সরকার।
ঘটনাটি ২০০৬ সালের। সেসময় কেরলে ক্ষমতায় ছিল ভি এস অচ্যুতানন্দনের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার। জ্ঞানেশ কুমার তৎকালীন সময়ে কেরলের পূর্ত দফতরের (PWD) সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। সেসময় মালয়েশিয়ার একটি ঠিকাদারি সংস্থা ‘পাটি-বেল’ কেরলে ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের বরাত পায়। অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সামান্য কিছু অসংগতির অজুহাত দেখিয়ে ওই সংস্থার কোটি কোটি টাকার পাওনা আটকে দেয় সরকার।
টাকা উদ্ধারের জন্য দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন সংস্থার চিফ ইঞ্জিনিয়ার কে সি বিন। অভিযোগ ওঠে, আটকে থাকা বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য কেরল সরকারের ওই শীর্ষ আমলার তরফ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। এরপরই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আচমকা আত্মহত্যা করেন ইঞ্জিনিয়ার কে সি বিন। মৃত্যুর আগে লিখিত সুইসাইড নোটে তিনি তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করে যান বলে জানা যায়।
সেই সময় বাম সরকার বিষয়টি নিয়ে ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে কিছুদিন পর তদন্তের ফাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি কেরলের এক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা বন্ধ থাকা সেই কেস পুনরায় খোলার আবেদন জানালে সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্য প্রশাসন। আবেদনের ভিত্তিতে কেরলের পুলিশ মন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা জানান, ২০ বছরের পুরনো সেই দুর্নীতি ও মৃত্যুর ফাইলের পুনঃতদন্তের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার পদাধিকার বলে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ (Constitutional Immunity) পেলেও, তা কেবল নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কমিশনের বাইরে ব্যক্তিগত বা পূর্বতন পদের দায়িত্ব পালনকালে কোনও ফৌজদারি অপরাধ বা আর্থিক কারচুপি সংঘটিত হয়ে থাকলে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে কোনও বাধা নেই।





