দিল্লিতে একিউআই ৪৫০ ছুঁইছুঁই, মাস্কেও হচ্ছে না কাজ
দিল্লির এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর পোষা গোল্ডেন রিট্রিভারের ব্রঙ্কাইটিস হয়ে গেছে দূষণের কারণে।
Truth Of Bengal: দিল্লির বায়ুদূষণ শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এই চরম অবস্থা নজরে রেখে আদালতের নির্দেশে স্কুলগুলিতে খোলা জায়গায় প্রার্থনা, খেলাধুলো বা স্পোর্টস ক্লাস নেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—শীতকালীন ক্রীড়া কার্যক্রম বা দৈনিক স্বাস্থ্যচর্চার ক্লাস আর বাইরে করা যাবে না, কারণ এতে শিশুদের স্বাস্থ্যের আরও ক্ষতি হতে পারে।
বিষাক্ত বাতাসের প্রভাব এবার ঘরের পোষ্য প্রাণীদের উপরও পড়ছে। দিল্লির এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর পোষা গোল্ডেন রিট্রিভারের ব্রঙ্কাইটিস হয়ে গেছে দূষণের কারণে। ডাক্তারের পরামর্শে কুকুরটিকে নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে। পোস্টটি রেডিটে ভাইরাল হওয়ার পর অসংখ্য ব্যবহারকারী নিজেদের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন। অনেকে দিল্লির পরিস্থিতিকে এতটাই ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা মানুষকে শহর ছেড়ে পালানোর পরামর্শও দিয়েছেন।
চিকিৎসা সতর্কতা বলছে, গত এক মাসে দিল্লি–এনসিআরের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন করে বিষাক্ত বাতাসের কারণে অসুস্থ হয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞই এই পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার মত ভয়াবহ বলে মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদে এই দূষণ রাজধানীর বাসিন্দাদের গড় আয়ুও কমিয়ে দেবে।
কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মাস্কও কাজ করছে না। তাই সম্ভব হলে অনলাইনে হাজিরা দিতে বলা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির গড় একিউআই ছিল ৩৭০—এ নিয়ে টানা আট দিন রাজধানী ‘ভীষণ খারাপ’ দূষণ স্তরে অবস্থান করছে।
তবে গড় হিসেব বিভ্রান্তিকর—প্রায় ১৮টি মনিটরিং স্টেশনে দূষণ মাত্রা ৪০০–র বেশি রেকর্ড হয়েছে। চাঁদনি চক, আনন্দ বিহার, মুন্ডকা ইত্যাদি এলাকায় একিউআই ৪০০–৪৫০–এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। পূর্বাভাস বলছে, আগামী ছয় দিন পরিস্থিতি বিপজ্জনক থেকে অতি খারাপ স্তরের মধ্যে থাকবে।
উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, পাঞ্জাবে ১৬, হরিয়ানায় ১১ এবং উত্তরপ্রদেশে ১১৫টি স্থানে ফসলের গোড়া পোড়ানো হচ্ছে। যদিও সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় কম, তবুও উত্তরমুখী বাতাসের কারণে সেই ধোঁয়া দিল্লি–এনসিআরে এসে মিশছে। ফলে যানবাহনের ধোঁয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে শহরের বাতাস আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও দূষণজনিত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাঁরা এই পরিস্থিতিকে স্পষ্ট ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ বলে বর্ণনা করছেন। এইমসের ডাক্তার অনন্ত মোহন জানান, দিল্লির দূষণ এখন প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং গত দশ বছর ধরে এই অবনতি চলছেই। তাঁর মতে, দূষণ শুধু ফুসফুস নয়—হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এমনকি গর্ভস্থ শিশুরও ক্ষতি করছে। তিনি নিশ্চিতভাবে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দিল্লিবাসীর আয়ুষ্কাল কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।






