দেশ

ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা বিহারে, লাইনচ্যুত মালগাড়ির ১৯টি বগি

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মালগাড়িটি সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

Truth Of Bengal: ফের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী হল দেশ। সিমেন্ট বোঝাই একটি মালগাড়ির একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের জামুই জেলার জসিডি–ঝাঝা রেল রুটে, বড়ুয়া নদীর উপর থাকা রেলসেতুতে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মালগাড়িটি সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোট ২০টি বগির মধ্যে ১৯টিই লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১০টি বগি সরাসরি নদীতে ছিটকে পড়ে, আর দুটি বগি সেতুর উপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলতে দেখা যায়। প্রতিটি বগিই সিমেন্টে ভর্তি থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও এখনও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় আশ্চর্যজনকভাবে কোনও হতাহতের খবর নেই। খবর পাওয়া মাত্রই আরপিএফ এবং রেল আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধার ও মেরামতির কাজ। লাইন থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত মালগাড়ির বগি সরানোর কাজ এখনও চলছে।

এই দুর্ঘটনার জেরে পূর্ব রেলের জসিডি–ঝাঝা রুটে আপ ও ডাউন লাইনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চলছে। বিলম্বিত ট্রেনের তালিকায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও রয়েছে।

ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেলের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—ভারতীয় রেল কি ক্রমশ দুর্ঘটনার প্রতীক হয়ে উঠছে?

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে ওড়িশার বাহানগায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, গত বছরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার মতো একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। চলতি বছরেও একাধিক বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, রেল নিরাপত্তায় গাফিলতির ফলেই বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ‘কবচ’ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে প্রায় ৬৮ হাজার কিলোমিটার রেলপথ থাকলেও এখনও মাত্র কয়েক হাজার কিলোমিটার ট্র্যাকই কবচ ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। ২০০১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন প্রথম অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি ঘটে। তখন শুধুমাত্র লোকোতে এই ব্যবস্থা বসানোর কথা বলা হয়েছিল। ২০২০ সালের পর এই প্রযুক্তির নামকরণ হয় ‘কবচ’। বিরোধীদের দাবি, এই কবচ ব্যবস্থা চালু করতে দেরিই বারবার দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Related Articles