বিনোদন

Uttam Kumar: উত্তম-সুচিত্রা: বাঙালি প্রেমিক হৃদয়ে এনেছিল কালবৈশাখী

Would you like this rewritten into a formal article format in English as well? I can convert the full Bengali content into a nostalgic yet concise tribute article in English for web or magazine.

বিকাশ ঘোষ: মহানায়ক উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। চলচ্চিত্র জীবনে বহু কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বাঙালি দর্শকেরা মোহিত হয়েছেন তাঁর অভিনয়ে। বাঙালি মননে তিনি একান্তই আপন হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যেকটি পরিবারে। যেন প্রত্যেকের খুব চেনা, খুব কাছের। তিনি যেন পরিবারেরই একজন। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ ছিল তখন শুধু উত্তম কুমারের নামে। তিনিই যেন একটা ইন্ডাস্ট্রি। গভীর ভালোবাসায় বাঙালি তাঁকে মহানায়ক আখ্যা দিয়েছিলেন।

একটার পর একটা সিনেমা তখন হিট। কলকাতা থেকে জেলা, যেখানেই বাংলা ও বাঙালি সেখানেই মহানায়ক উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। বাংলার বাইরে একাধিক রাজ্যেও উত্তম কুমারের ছবি তখন রমরমিয়ে চলছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস। ভিন্ন ভিন্ন ধারার অভিনয়, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র। সব চরিত্রেই যেন তিনি জীবন্ত। প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁকে নিয়েই লিখেছিলেন ‘নায়ক’। ‘নায়ক’ তিনি। দ্বিতীয় কারও নাম মাথায় আসবেই না। আবার যখন তিনি এন্টনি ফিরিঙ্গির অভিনয় করেন তখন সেই চরিত্রের মধ্যেই মিশে যান। গরিব ‘শিল্পী’ তিনি, কখনও দুঁদে গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী, আবার কখনও ‘ছদ্মবেশী’। তিনিই যে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘সব্যসাচী’।

তাঁর অভিনয় সমৃদ্ধ একের পর এক চলচ্চিত্র যেন রত্নভাণ্ডার থেকে তুলে আনা বহু মূল্যবান সবরত্ন। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ। নায়ক থেকে চিড়িয়াখানা, সপ্তপদী থেকে হারানো সুর, সাড়ে চুয়াত্তর বা সব্যসাচী, চৌরঙ্গী, অগ্নিপরীক্ষা, ‘সবার উপরে’ তিনিই যে ছিলেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন জুটির একটার পর একটা সিনেমা তখন বাঙালি প্রেমিক মনে কালবৈশাখী ঝড় নিয়ে এসেছে। এমন রোমান্টিক জুটি যে তার আগে কখনও আসেনি বাংলা চলচ্চিত্রে। সেই চোখের চাহনি, সেই ভাষা যেন কত যুগের চেনা।

যেন এক হৃদয়ের সঙ্গে আর একটা হৃদয়ের মেলবন্ধন ঘটেছে। সে বাঁধন ছিঁড়বে কে? বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সেরা জুটি ছিল মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এর। প্রায় ৩০ টিরও বেশি সুপারহিট ছবি তারা উপহার দিয়েছেন দর্শককে। উত্তম-সুচিত্রা জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে এক রোম্যান্টিক আবহ তৈরী করে। তাদের সিনেমা জগতে আগমনের পর দর্শক উপভোগ করেছে রোমাণ্টিকতার স্বাদ। তাদের অভিনয় মুগ্ধ করেছে সমস্ত বাঙালিকে। একের পর এক সুপারহিট ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমাকে এক উচ্চপর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনের জুটি। তাদের ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ কিংবা ‘এই রাত তোমার আমার’ আজও চিরন্তন। চিরসবুজ এই জনপ্রিয় জুটির সিনেমা এবং সেইসব গান। উত্তমকুমার (Uttam Kumar) ও সুচিত্রা সেনের জনপ্রিয় সিনেমা।

সাড়ে ৭৪
উত্তম সুচিত্রা জুটির প্রথম ছবি সাড়ে ৭৪। কমেডিতে ভরপুর এই ছবিটি। ১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন নির্মল দে। এই ছবিটির মাধ্যমেই প্রথম দশর্কদের সামনে এসেছিল রোমান্টিক এই জুটি যা সেই সময়কার সেরা জুটি ছিল, যাঁদের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে একাধিক সিনেমায়। সাড়ে চুয়াত্তর এর কাহিনিকার ছিলেন বিজন ভট্টাচার্য। ছবিতে মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেন তুলসী চক্রবর্তী, মলিনা দেবী, উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও সনৎ সিংহ – এই পাঁচজন সমসাময়িক গায়কও এই ছবিতে অভিনয় করেন। আরও দু-টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ও জহর রায়।

পথে হল দেরী
১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় অভিনেতা উত্তম কুমার (Uttam Kumar) এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত চলচ্চিত্রটি। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘পথে হল দেরী’। প্রতিভা বসুর গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় প্রত্যেকের অভিনয় মন কাড়ে দর্শকের। উত্তম-সুচিত্রা জুটির অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা এটি। এই চলচ্চিত্রটির ‘এ শুধু গানের দিন, এ লগন গান শোনাবার’ গানটি জনপ্রিয়তার মাইলফলক পার করেছিল।

হারানো সুর
১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় সুচিত্রা সেন ও উত্তম কুমার অভিনীত রোম্যান্টিক চলচ্চিত্র ‘হারানো সুর’। এই চিত্রনাট্য লিখেছিলেন নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চচট্টোপাধ্যায়। জনপ্রিয় এই সিনেমাটি তামিল ভাষায় ‘অমারা দীপম’ এবং হিন্দিতে ‘অমর দীপ’ নামে চিত্রিত হয় পরবর্তীতে।

একটি রাত
জনপ্রিয় হাসির বাংলা চলচ্চিত্র একটি রাত মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালে। সাহিত্যিক বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ভীমপালশ্রী গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল এই চলচ্চিত্রটি, যার মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন।

সপ্তপদী
সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘সপ্তপদী’। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় ছিল উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন। এই সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন অজয় কর। দুই বিপরীত ধর্মের তরুণ হৃদয়ের প্রেম এবং তাদের লাভ স্টোরি এই সিনেমার কাহিনি। এই সিনেমাটির কালজয়ী গান ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ আজও সমান জনপ্রিয়। সপ্তপদী ছবির গান অনেক জনপ্রিয় হয় সে সময়। এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

সবার উপরে
উত্তম কুমার (Uttam Kumar) এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘সবার উপরে’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। এই সিনেমাটি হিন্দিতেও নির্মিত হয় ‘কালা পানি’ নামে। এই জুটির অভিনয় আজও জীবন্ত হয়ে আছে।

সাঁঝের প্রদীপ
সুধাংশু মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ১৯৫৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সাঁঝের প্রদীপ। এই ছবিটিও দর্শকমন জয় করেছিল।

চাওয়া পাওয়া
তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ১৯৫৯ এ মুক্তি পায় বাংলা রোমান্টিক কমেডি ছবি চাওয়া পাওয়া। উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন অভিনীত অন্যতম জনপ্রিয় এই ছবিটি।

গৃহদাহ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে রচিত ‘গৃহদাহ’ উত্তম-সুচিত্রা জুটির অন্যতম সেরা ছবি। ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে মহিম এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার এবং অচলার ভূমিকায় দেখা যায় সুচিত্রা সেনকে।

সাগরিকা
উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন (Uttam Kumar) অভিনীত অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র সাগরিকা। এই সিনেমার ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে, সাত সাগর আর তেরো নদীর পারে’ কালজয়ী এই গানটি আজও জনপ্রিয়। ১৯৫৬ সালে মুক্তি পায় ছবিটি।

শাপমোচন
১৯৫৫ সালে ঔপন্যাসিক ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় শাপমোচন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন অসাধারণ এই ছবিটি। রোমান্টিক এই চলচ্চিত্রে উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনের অভিনয় দর্শকদের অভিভূত করে।

ইন্দ্রাণী
১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া ইন্দ্রানী চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যায় উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনকে।

রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাস অবলম্বনে হরিদাস ভট্টাচার্য এই ছবিটির চিত্রনাট্য লেখেন। এই সিনেমায় রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় দেখা যায় সুচিত্রা সেনকে এবং শ্রীকান্তর ভূমিকায় ছিলেন উত্তম কুমার।

শিল্পী
১৯৫৬ সালে মুক্তি প্রাপ্ত শিল্পী ছবিটি একটি ট্র্যাজিক লাভ স্টোরি। উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন এর অন্যতম সেরা ছবিগুলির মধ্যে একটি হল শিল্পী।

জীবনতৃষ্ণা
অসিত সেন পরিচালিত উত্তম কুমার (Uttam Kumar) এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত জীবনতৃষ্ণা ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৭ সালে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন ভূপেন হাজারিকা।

অগ্নিপরীক্ষা
উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত জনপ্রিয় রোমান্টিক বাংলা চলচ্চিত্র অগ্নিপরীক্ষা। সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর কাহিনি অবলম্বনে তৈরী হয় ছবিটি। ১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির পরিচালনায় ছিল অগ্রদূত। এই চলচ্চিত্রটি হিন্দিতে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে, হিন্দিতে ছবিটির নাম ছিল ছোটি সি মুলাকাত।

ত্রিযামা
উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনের অসামান্য এক লাভ স্টোরি ত্রিযামা, ১৩২ মিনিটের এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালে। সুবোধ ঘোষের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় অগ্রদূত পরিচালিত বাংলা রোমান্টিক চলচ্চিত্র ত্রিযামা। সানরাইজ ফিল্মসের ব্যানারে মুক্তি প্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন নচিকেতা ঘোষ।

মরণের পরে
গজেন্দ্রকুমার মিত্রের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত মরণের পরে চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন সতীশ দাশগুপ্ত। উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত এই ছবিটি একটি অপরাধ এবং রহস্য মূলক বাংলা চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালে হিমালয় আর্ট প্রোডাকশন ব্যানারে।

বিপাশা
১৯৬২ সালে মুক্তি প্রাপ্ত চলচ্চিত্র বিপাশা, উত্তম কুমার (Uttam Kumar) এবং সুচিত্রা সেনের হিট ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম। অগ্রদূত দ্বারা পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি দেশভাগের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে।

ওরা থাকে ওধারে
সুকুমার দাশগুপ্ত পরিচালিত বাংলা রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ওরা থাকে ওধারে। যা ঘটি এবং বাঙালদের বিরোধ দেখানো হয়েছে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ত্রই চলচ্চিত্রটি এস.এম প্রোডাকশন ব্যানারে মুক্তি পায় ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৪ সালে। এই চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন।

অন্নপূর্ণার মন্দির
নরেশ মিত্র পরিচালিত নিরুপমা দেবীর ‘অন্নপূর্নার মন্দির’ নামে উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল এই চলচ্চিত্র টি। উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত এই ছবিটি ১৯৫৪ সালে চিত্র মন্দিরের ব্যানারে মুক্তি পায়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারও লাভ করে এই সিনেমাটি। উত্তম সুচিত্রা জুটির অসামান্য অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কাটে।

উত্তম কুমারের অন্যতম সেরা ছবির তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক সিনেমা। যেখানে বিপরীতে অন্যান্য নায়িকারা রয়েছেন। উত্তম কুমারের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসাবে ধরা হয় সত্যজিৎ রায় পরিচালিত নায়ক সিনেমাটিকে। পরিচালক সত্যজিৎ রায় উত্তম কুমারের কথা মাথায় রেখে এই কাহিনী রচনা করেন। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে ‘নায়ক’ এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।

নায়ক
নায়ক হল ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ও সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি বাংলা ড্রামা চলচ্চিত্র। এই ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্যও সত্যজিৎ রায়ই রচনা করেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবিটির পর এই ছবির চিত্রনাট্যই সত্যজিৎ রায় রচিত সম্পূর্ণ মৌলিক চলচ্চিত্র। সত্যজিৎ রায় এই সিনেমাটির স্ক্রিনপ্লে লিখেছিলেন দার্জিলিং এ বসে। উত্তমের প্রতি সত্যজিতের আলাদা একটা দুর্বলতা ছিল। সত্যজিতের মা-ও উত্তমকে অনেক পছন্দ করতেন। এই ক্যারেক্টারে উত্তম ছাড়া আর কেউকে ভাবতেই পারেননি সত্যজিৎ। কারণ এই গল্পটা একজন স্টারের। তাছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা একজন মানুষ সংগ্রামের মাধ্যমে স্টার হয়ে উঠেছে, সেটার সাথে উত্তমের জীবনটা বেশ মিলে যায়। উত্তমও (Uttam Kumar) প্রচণ্ড খুশি হয়েছিলেন সত্যজিত রায়ের সঙ্গে কাজ করে। এত চমৎকার সব শট দিতেন যে সবাই মুগ্ধ হয়ে যেতেন। নায়ক সিনেমার বেশিরভাগ সিন এক টেকে ‘ওকে’ হওয়া। সত্যজিৎ রায় ঘনিষ্ঠ মহলে এমন অনেক কথা জানিয়েছিলেন।

চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের একটি বাংলা চলচ্চিত্র। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী অবলম্বনে এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। সিনেমায় ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহানায়ক উত্তম কুমার। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের একই নামের উপন্যাস থেকেই এর কাহিনী নেওয়া হয়।

চৌরঙ্গী
চৌরঙ্গী ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র, যেটি তৈরি করেন পিনাকি ভূষণ মুখোপাধ্যায় এবং মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার, অঞ্জনা ভৌমিক, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ শিল্পী । চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের একই নামের উপন্যাসকে নিয়ে।

অমানুষ
অমানুষ একটি জনপ্রিয় বাংলা-হিন্দি দ্বিভাষিক চলচ্চিত্র। এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। এই ছবির পরিচালক ছিলেন শক্তি সামন্ত। সুরকার ছিলেন শ্যামল মিত্র। এই ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar), শর্মিলা ঠাকুর, অনিল চট্টোপাধ্যায় এবং উৎপল দত্ত। এই সিনেমায় বাংলা এবং হিন্দিতে গাওয়া কিশোর কুমারের গানগুলি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল তখনকারদিনে। ছবিটির মূল কাহিনীকার শক্তিপদ রাজগুরু। তিনি দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বাদাবন এলাকায় ছিলেন। সেখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে তুলে ধরেছিলেন তার নয়া বসত উপন্যাসে। সেই উপন্যাস থেকেই শক্তি সামন্ত এই ছবি তৈরি করেন। ছবিটি বাংলা এবং হিন্দি দুটি ভাষায় আলাদা করে তৈরি হয়।

ওগো বধূ সুন্দরী
ওগো বধূ সুন্দরী হল ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা কমেডি চলচ্চিত্র। এই ছবিটি পরিচালনা করেন সলিল দত্ত। এই ছবিটি উত্তম কুমারের সর্বশেষ ছবি। ছবিটিতে অভিনয় অসমাপ্ত রেখেই তার মৃত্যু ঘটেছিল। ছবির শেষাংশে ‘ও ড্যাডি, ও মাম্মি’ গানের দৃশ্যায়নের সময় প্রবীর কুমার উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) ‘বডি ডবল’ হিসেবে কাজ করেন। ডাবিং-এর সময় উত্তম কুমারের ছোটোভাই তরুণ কুমারের কণ্ঠস্বর ব্যবহৃত হয়।

Related Articles