ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ কাদের মোল্লা-সহ ১০ জন গ্রেফতার
শেখ শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কাদের মোল্লা-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
Truth of Bengal: ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় এবার অত্যন্ত বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কাদের মোল্লা-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, বিগত দীর্ঘ দিন ধরে সংগৃহীত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং স্থানীয় গোপন সূত্রের ভিত্তিতেই এই ব্যাপক গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়েছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা, যাতে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বাকি অপরাধীদের হদিস মেলা সম্ভব হয়।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৯ সালের ৮ জুন, সন্দেশখালির ন্যাজাট থানা এলাকায়। লোকসভা নির্বাচন মেটার পর রাজনৈতিক পতাকা খোলা এবং এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধেছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই সংঘর্ষ চলাকালীন প্রদীপ মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামে তিন বিজেপি কর্মীকে প্রথমে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিয়েছিল রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। কিন্তু পরবর্তীতে সিআইডি-র পেশ করা চার্জশিট থেকে মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান-সহ মোট ২৮ জনের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে যায়। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে সুবিচারের আশায় নিহত তিন বিজেপি কর্মীর পরিবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং সিআইডি-র ওপর আস্থা হারিয়ে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানায়। উচ্চ আদালত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের সেই নির্দেশের পর তদন্তে নেমেই ৫ বছর আগের এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সংস্থা।






