সম্পাদকীয়

ছুটিই নিল শীত

Winter has taken its leave.

Truth Of Bengal: কবি সীমা চক্রবর্তীর কবিতার চারটি লাইন তুলে দিয়ে লেখা শুরু করি।

শীত এবার নেবে ছুটি, আমাদের শহর থেকে

প্রবল তাপের ঝুলি নিয়ে, গ্রীষ্ম আসবে হেঁকে

বলতে গেলে ছয়টা ঋতু, আমি তো দেখি তিন

গ্রীষ্ম বর্ষা শীতই আছে, আর ঋতুরা মলিন।

পৃথিবীর সব জায়গাতেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে বঙ্গে শীত বেশিদিন থাকে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শীতল স্থানগুলিতেও যেখানে সারা বছর বরফ পড়ে, সেই সব জায়গাতেও মানুষ গরম উপভোগ করছে। আন্টার্টিকা, গ্রিনল্যান্ড প্রভৃতি জায়গায় যেখানে সবসময় পারদ মাইনাসে থাকে সেখানেও মানুষ গরম উপলব্ধি করছে। আবহাওয়াবিদরা সমীক্ষা করে বলছেন, পৃথিবীর সব দেশই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, পৃথিবীর সব জায়গাতেই বৃক্ষছেদন এর মূল কারণ। মানুষ নিজে হাতে পরিবেশকে খুন করছে প্রতিদিন। বৃক্ষছেদন সারা পৃথিবীতে প্রভাব ফেলছে আবহাওয়ার পরিবর্তনের। শহর, গ্রাম যেদিকেই তাকাই আজ চাষের জমি বিক্রি হয়ে মাল্টিপারপাস বিল্ডিং গড়ে উঠছে। শহরগুলোরও একই অবস্থা। যেখানে-সেখানে পুকুর, দিঘি বুজিয়ে বৃক্ষছেদন করে আঠারো তলা, বিশ তলা ফ্ল্যাট বাড়ি মাথা উঁচু করছে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। যার প্রভাব পড়ছে সমগ্র পৃথিবীতে। এখন মৌসুমী বায়ুপ্রভাবে আর বর্ষা আসে না। মৌসুম বায়ু কথাটি এখন ভূগোলের বই থেকেই মুছে গিয়েছে। এখন বৃষ্টি হয় নিম্নচাপের প্রভাবে। বর্ষা ঋতু আছে কিন্তু বর্ষা নেই।

উত্তরের হিমেল হাওয়া আর বয় না। গা শিরশির করা শীত তাই আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। একটা প্রচলিত কথা ছিল যে, মাঘের শীত বাঘের গায়ে। অর্থাৎ মাঘ মাসে বনের বাঘও কাঁপে। শীত এবার ছুটি নিয়েছে শহর ও গ্রাম থেকে। প্রবল তাপ দাপট দেখায় সারাবছর গ্রীষ্ম জুড়ে। ছয়টা ঋতুর মধ্যে আমরা জানতাম যে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, শরৎ, হেমন্ত ও বসন্ত। বাকিগুলির প্রভাব না বোঝা গেলেও প্রধান তিন ঋতু আমরা বুঝতে পারতাম। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত। আগামী দিনে ছয়টি ঋতু থাকবে ঠিকই প্রধান ঋতুর মর্যাদা পাবে গ্রীষ্ম বা গরম ঋতু। মানুষ এখনও যদি সচেতন না হয় উত্তপ্ত পৃথিবী লাভার মতো একদিন গলে শেষ হয়ে যাবে। হয়তো পৃথিবী ধ্বংসের এটাই মূল কারণ হবে।

Related Articles