সম্পাদকীয়

শীতের আমেজ আর উৎসবের রঙিন কোলাজ: ডিসেম্বর মানেই একরাশ আনন্দ

আর বড়দিন মানে তো দিকে দিকে কেক উৎসব।

বাবুল চট্টোপাধ্যায়:  শীতের আভাস চলছে। সে তো অনেক কথা বলছে। তবে এবারের শীতটা ঠিকঠাক হল কই! সামান্য টের পাওয়া যাচ্ছে – এই যা! মানে আভাস পেয়েও শীতের নাগাল তেমন পাওয়া গেল না! মানে শীত উঁকি মেরে অনেকটা উধাও। সুতরাং ঠিকমত জাঁকিয়ে শীতটা পড়ল কই! মানে ঠান্ডাটা- ও উধাও। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হাওয়াতে আমাদের আর তেমন কোনো গরম পোশাক পরতে হচ্ছে না। বলা যায় সোয়েটারের তেমন ঝামেলাই নেই। তবে যারা ঠান্ডা অনুভবের আমেজে থাকতে ভালোবাসেন তারা নিরানন্দে-ই আছেন। আমাদের দেশ নাতিশীতোষ্ণ দেশ। কিন্তু হলে হবে কি! মরশুম তো আর কোন কথা রাখছে না। মানে শীতকালে ঠান্ডা নেই, গরম কালে গরম নেই — এ এক অদ্ভুত ওয়েদার। তবে আমরা দেখছি এখন গরমটা বেশি পড়ছে। আবার সে সময়ে হাঁসফাঁস অবস্থা – এক কথায় অসহ্য। তবে শীতকালে মজাটা অন্য জায়গায়। শীতকাল ঘুরে থাকে এক অনাবিল আনন্দ। মানে মনের মেজাজে কোথাও ঘুরে বেড়ানো যায় সহজে। মানে পিকনিক বা বনভোজন, পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, অনুষ্ঠান সব যেনো একাকার হয়ে যায় সব। মানে এক কথায় একরাশ উৎসব।

একরাশ বলার কারণ আছে। এক আধটু বললে শীতকাল ফুরাবে না। ধরুন ডিসেম্বর মানে আছে বড়দিন। আর বড়দিন মানে তো দিকে দিকে কেক উৎসব। আবার উৎসব মানে তো দিকে দিকে সাংস্কৃতিক বাতাবরণ রয়েছেই। এ পাড়া তো ও পাড়া দেখে কে! এ এনেছে বাংলার টপ তো ও এনেছে বোম্বের টপ শিল্পী। আবার এরপর আছে তো বড় বড় জেলার নামেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মানে কোথাও পুষ্প প্রদর্শনী তো কোথাও বইমেলা তো কোথাও আবার বিদেশি পাখির মেলা। এরপর নিত্য বার্ষিক মেলা তো লেগেই রয়েছে। আবার শীতের সময় রাস উৎসব তো একটা আলাদা মাত্রা আনে। আবার দিকে দিকে চলছে পাখির প্রদর্শনী। কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলবো। এই সব আয়োজন আসলে উৎসব।

পরীক্ষা শেষ। আর তা যদি এই সময়ে তবে কোনো কথা হবে না। খোকা প্রস্তুত বাইরে বের হাওয়ার জন্যে। তবে পিকনিক! হল পিকনিক। হয় বাড়ির থেকে বের হওয়া, নই নিজেদের বন্ধুবান্ধব এর আয়োজন। মানে হয় পড়ার কোচিং নয়ত ড্যান্স, আঁকা, গানের সেন্টার মানে কিছু একটা তো হবে। খুব মজা। অনেক অপেক্ষার পর যেন একটা টাটকা জীবন সুধা পাওয়া –কম কথা নয়! তাই ছোট থেকে বড় থাকে বেশ আনন্দেই। তবে সব ক্ষেত্রে মজা, আনন্দ এর রকম থাকে না।

এ সময়ে যারা নাচ,গানের মত বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী তাদের দম ফেলবার সময় নেই। ছোট থেকে বড় সব ধরনের অনুষ্ঠানে ওদের আদর যেনো এই সময়ে। কোনও ফুরসৎ নেই কারও। কারণ এই শীতকালে যত প্রোগ্রাম। ভুল বললাম কত প্রোগ্রাম। সবাই ব্যস্ত। ক্রিসমাস যাবে তো ফাস্ট জানুয়ারি আসবে তারপর ২৩ জানুয়ারি ২৬ জানুয়ারি আছেই। যত বড় প্রোগ্রাম হোক না কেন,ছোট শিল্পী বা লোকাল শিল্পী তো কোনো না কোনো ভাবে সুযোগ পাবে। পাবেই। আর তখনই দেখানো যায় নিজের কেরামতি। অনেক সময় দেখা যায় এই লোকাল শিল্পীরা আসর মাতিয়ে দেয়। কি অসাধারন পারফরমেন্স। এক অন্যকে বলাবলি করে-আরে বাবা ও তো আসল শিল্পী থেকে ভালো পারফরমেন্স করল। হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে এত প্রাক্টিস এর ফলে আসল শিল্পী থেকে অনেক ভালো পারফরমেন্স হয়েও যায়। হ্যাঁ, ছাপিয়ে যায়। তবে তাই বলে অরিজিন্যাল শিল্পীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। কারণ একজন শিল্পী হতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। সহজে কিছু হয় না। জানতে হবে সহজে পেলে সহজে হারায়। আপনি আমি তার ভুরি ভুরি উদাহরণ জানি। কত কেই অহঙ্কারে হারিয়ে গেছে। একদিন টিভিতে মুখ দেখিয়ে নিজেকে সেলিব্রিটি ভাবতে শুরু করেছে এমন কি কম আছে! আর ওই এক হয়েছে সোস্যাল মিডিয়া! আসলে আমাদের কত যে পচনশীল রুচি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নইলে পোশাক খুললেই এত লাইক কমেন্ট হবে কেন! এখন সব কিছু ওপেন হয়ে যাচ্ছে না! আর এখানেই মার খাচ্ছে শিল্পী মহল।

সারা বছর অপেক্ষায় থাকে এই শিল্পী মহল। এই শীতকালীন সময়ে। কারণ কারো চিরকাল সমান যায়না। তাই অহংকার পরিত্যাগ করতে হবে। চরম সাফল্যের সময়ও ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হবে। কথা বলতে হবে সাবধানে। এমন অনেক কথা আমার আপনার জানা। যারা সামান্য উঠে চিরতরে পরে গেছে। না, ভবিষ্যতে আর উঠতে পারেনি। একটা উদাহরন আসা যাক। উত্তর কলকাতা সব সময় অনুষ্ঠান লেগেই আছে। বিশেষ করে বেলেঘাটা অঞ্চলে বহু সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম হয়। হ্যাঁ,সারা বছরই হয়। আর ডিসেম্বর জানুয়ারি হলে কোনও কথা হবে না। এই পাখি উৎসব তো ওই কেক উৎসব। খ্রিস্টমাস, ফাস্ট জানুয়ারি,এমএলএ কাপ, ২৩ জানুয়ারি, ২৬ জানুয়ারি মত কত কত কত।ট্র্যাফিক পড়ে মহা বিপদে! ছোট রাস্তায় চারটি ওয়ার্ড। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ, আর এই রেষারেষির জেরে ব্যানার পোস্টারে ছয়লাপ। রাস্তা হয় ছোট। দু’টো বড়ো গাড়ি পার করা মুশকিল। আবার অন্যদিকে রাস্তার উপরে স্টেজ করে যত প্রোগ্রাম। রাস্তা বন্ধ করতে হয়। এমনকী অনেক সময় গাড়ি ডাইভারশন করতে হয়। যাত্রীরাও পড়েন মহা বিপদে। এই রকম কলকাতার কত রাস্তায় কত কাণ্ডই না আমাদের অজানা।

তবে যাই কাণ্ড হোক না কেন কিছু মানুষ মজেছে বলেই তো এত কিছু সম্ভব। এখন মানুষ আর পেছনের কথা বা পরবর্তী কালের কথা ভাবে না। ব্যাক্তি মতে মনে হয় মানুষ খুব আনন্দে নেই তাই যেটুকু সুযোগ পায় তা চেটেপুটে উপভোগ করতে চাই। মানুষ এখন মুহূর্তে বাঁচে। বড় অসময়ে রয়েছি আমরা। বহু কষ্টে রয়েছি আমরা। খুব ভালো চাকরি ছাড়া কেই খুবি ভালো নেই! এমনকি তারাও নেই! মাথায় রাখতে হবে যার যত আয় তার তত ব্যয়। তাই এই পিকনিক এই শীতকাল আনন্দের ছুঁতো হলেও ক্ষতি কি। কি রেখে যাবে মানুষ বলুনতো? সবশেষে দের কিলো ছাই! তাই আনন্দটুকু থাক। বাঁচুক না মানুষ তার নিজের মতো করে। তবে মাথায় রাখতে হবে সব পেলে নষ্ট জীবন। কি তাই না?

Related Articles