জনতাই জনার্দন
জাগতিক জীবনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত সমস্ত অন্যায়, অবিচার, ব্যভিচার, লাগামছাড়া দুর্নীতি, পাইয়ে দেওয়ার সুবিধাবাদী রাজনীতি, স্বজনপোষণ ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চায় সুপ্রশাসন।
সুপ্রভাত লাহিড়ি: ‘পরিবর্তন চাই’। পরিবর্তন হলে ভাল হয়। অপশাসনের শেষ হোক, এই সব উচ্চকিত আকাঙ্ক্ষা বা দাবির পেছনে যে সব সারবত্তাগুলো কাজ করে তা হল, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি বা স্বস্তি। হতাশা, বিরক্তি, ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় অস্থিরতা, টেনশন, ব্লাডপ্রেসার। জাগতিক জীবনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত সমস্ত অন্যায়, অবিচার, ব্যভিচার, লাগামছাড়া দুর্নীতি, পাইয়ে দেওয়ার সুবিধাবাদী রাজনীতি, স্বজনপোষণ ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চায় সুপ্রশাসন। জিগির তোলে পরিবর্তনের।
দৈনন্দিন জীবনের টানাপোড়েন, চড়াই-উৎরাইয়ে মানুষ খোঁজে একটু শান্তি। চায় সুস্থ পরিবেশ। কিন্তু এই আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, দম্ভ এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে পরস্পর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। এ সবের মূলেই রয়েছে মূল্যবোধ বর্জিত রাজনৈতিক পাপাচার।
‘অপশাসনের অবসান চাই-ই’ এটাকে ‘স্লোগান’ না ভেবে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নির্গত এক আর্তি বলে ধরে নেওয়া যায় না কি? নচেত মাথা নীচু করে ‘জো হুজুর’ বলেই থাকতে হবে চিরটাকাল। সে যে দলই আসুক।
পরিবর্তনকামী হওয়া মানে উদ্ধত হওয়া নয়। অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা যেমন বাঞ্ছনীয় নয় তেমনই সম্মাননীয়দের অপমান করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। উত্তেজনা নিরসন করতে হলে কিছুক্ষণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা থেকে ক্ষান্তি দিতে হবে। তারপর নিজের অনুভূতি প্রকাশ পাবে। তবেই সব দিক দিয়ে শালীনতা বজায় থাকবে। সমালোচনার নামে কোনও সময়েই প্রতিপক্ষকে অপমান নয়। সমালোচনার সুর যেন চড়া না হয়। নিজেকে নিষ্কলুষ রেখে মানুষকে জয় করে নেওয়াই বিধেয়। প্রতিযোগিতা ভাল কিন্তু কাউকে পিছন থেকে টেনে ধরে নয়।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো আরও জটিল বা অন্য রূপ নেবে কিনা তা সময়ই বলবে। তবে আইনমান্যতাকারী অনুভবী মানুষগুলো সংস্কার চায়। আর আমজনতার এই জিগিরই আনতে পারে পরিবর্তনের সুস্থিরতা। জনতা জনার্দনের ভূমিকা নিলে সব রাজনৈতিক দলই সমঝে চলবে। রাজনীতির এই কদর্য রূপ যত তাড়াতাড়ি ফিকে হতে শুরু করে ততই মঙ্গল।




