সম্পাদকীয়

রো-কো জুটিকে বিশ্বকাপে দলের বাইরে রাখার ‘সাহস’ দেখাতে পারবেন গম্ভীর

নেভিল কার্ডাস যখন এই কথা লিখেছিলেন, তখন ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীর যুগ আসেনি।

জয়ন্ত চক্রবর্তী: বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেট লেখক ও সমালোচক নেভিল কার্ডাস লিখেছিলেন যে, ‘স্কোর বোর্ড আসলে একটি গাধা’। স্কোর বোর্ড দেখে কিছু বোঝা যায় না। কথাটা কার্ডাস সঠিকই বলেছিলেন। দীর্ঘদিন পরে জলন্ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু হতেই প্রথম টেস্টে নবজ্যোৎ সিং সিধু সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা স্কোরবোর্ডে লেখা আছে। কিন্তু সেদিন মাঠে যাঁরা ছিলেন তাঁরা মনে রাখবেন সিধুর সেঞ্চুরিটি কী যন্ত্রণাদায়ক ছিল। অর্থাৎ স্কোরবোর্ড বলবে যে সিধু পাজি সেদিন সেঞ্চুরি করেছিলেন, কিন্তু তাঁর ব্যাটিং ছিল অতি সাধারণ। নেভিল কার্ডাসকে সেদিন বারবার মনে পড়েছিল। কিন্তু, নেভিল কার্ডাস যখন এই কথা লিখেছিলেন, তখন ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীর যুগ আসেনি।

রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি যুগও নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দুটি ওয়ান ডে ম্যাচের স্কোর কার্ড দেখে কি রো-কো জুটিকে দলের বাইরে রাখার ‘সাহস’ দেখাতে পারবেন দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর? পাঠক, খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলে দেখবেন যে সাহস কথাটি আমি ইনভার্টেড কমার মধ্যে রেখেছি। শুধু গৌতম গম্ভীর কিংবা অজিত আগরকারের রচিত চিত্রনাট্য এটি নয়, পেছনে আরও মদতদাতা আছেন।

নেভিল কার্ডাসের কথাটি স্মরণ রেখেও বলা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুটি ম্যাচে কোহলির সেঞ্চুরি কিংবা রোহিত শর্মার অনবদ্য ইনিংস দেখার পর কি গম্ভীর সাহস দেখাতে পারবেন— এদের বাইরে রেখে ছাব্বিশ-এর বিশ্বকাপ দল গঠনের? ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কিছু কর্তা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাই তাঁরা রোহিত শর্মাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, দলে তিনি থাকবেন কিনা সেই কথা না ভেবে ফিটনেসের ওপর আর নিজের আগ্রাসী ব্যাটিং-এর দিকে মন দেওয়ার জন্য।

গৌতম গম্ভীর ভারতীয় ক্রিকেটে যে তরুণরাজ কায়েম করতে চাইছেন, তার বিরুদ্ধে যেন বিজ্ঞাপন হয়ে দাঁড়াচ্ছেন রো-কো জুটি। দলে তরুণদের পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা দরকার তা বুঝিয়ে দিয়েছেন রোহিত এবং বিরাট। এটা সত্যি যে ২০২৬-এ রোহিত ৪১ হবেন, বিরাট ও ৪০-এর কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছবেন। তাতে ক্ষতি কী! যদি ৪১, ৪০-এও এইভাবে পারফর্ম করা যায় তা হলে অসুবিধা কোথায়? ইতালির বিশ্বকাপ ফুটবল দলে দিনো জফকে যখন ৪২ বছর বয়েসে গোলরক্ষা করার জন্যে ডাকা হয়, তখন ইতালিতে কম শোরগোল পড়েনি। দিনো জফ কিন্তু সেদিন প্রমাণ করেছিলেন, বয়স একটা সংখা মাত্র। গৌতম গম্ভীর দেওয়ালের লিখন ভাল পড়তে পারেন। তাই যখন দলের অধিনায়ক কেএল রাহুল বোলিং পরিবর্তনের ব্যাপারে রোহিত শর্মার পারামর্শ নেন তখন তিনি ক্ষিপ্ত হন না।

বোর্ড ২০২৬-এর বিশ্বকাপ দলের জার্সির উদ্বোধন রোহিত শর্মার হাত দিয়ে করলেও তাঁর কোনও আপত্তি থাকে না। এমনকী টকিং টার্ম-এ না থাকা বিরাট কোহলির দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির পরে রোহিতকে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ চ্যাট করতে। এরপরও কী মনে হয় যে গৌতম গম্ভীর রো-কো’কে বাদ রেখে বিশ্বকাপ দল গড়ার বিলাসিতাকে স্থান দেবেন! অবশ্য যদি ততদিন গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ থাকেন! বিশেষ দ্রষ্টব্য- বোর্ডের কোনও কোনও কর্তা নাকি চাইছেন, অবসরের সিদ্ধান্ত ভেঙে রোহিত এবং বিরাট ক্রিকেটের মেন স্ট্রিমে ফিরে আসুন। এটা নিছক গুজবই হতে পারে। কিন্তু কখনও কখনও মনে হয় (নেভিল কার্ডাসের কথা মনে রেখেও) গুজব সত্যি কেন হয় না, আহা!

Related Articles