Lok Prasar Project: লোকসংস্কৃতির নবদিগন্ত: লোকপ্রসার প্রকল্প ও মুখ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী অবদান
একসময় যখন এই লোকধারাগুলি সময়ের পরিবর্তনের স্রোতে ধীরে ধীরে বিস্মৃতির পথে হাঁটছিল, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হয় এক যুগান্তকারী প্রকল্প— ‘লোকপ্রসার প্রকল্প’।
নাজমুল হক (লেখক- অধ্যাপক): বাংলার মাটি, বাংলার জল চিরকালই তার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। বাউল, ভাটিয়ালি, ঝুমুর, ছৌ, গম্ভীরা, পটচিত্র বা কীর্তন— এগুলি কেবল শিল্প নয়, বাংলার গ্রামীণ সমাজের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যখন এই লোকধারাগুলি সময়ের পরিবর্তনের স্রোতে ধীরে ধীরে বিস্মৃতির পথে হাঁটছিল, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হয় এক যুগান্তকারী প্রকল্প— ‘লোকপ্রসার প্রকল্প’। এই প্রকল্পটি রাজ্যের লক্ষাধিক লোকশিল্পীর জীবনে নিয়ে এসেছে এক নতুন ভোর, তাঁদের মুখে ফুটিয়েছে হাসি এবং সামাজিক মর্যাদা (Lok Prasar Project)।
মুর্শিদাবাদের এক বাউল শিল্পীর কণ্ঠে আজ যে সুর শোনা যায়—
“যা দিয়েছো তুমি মোদের, দেব তার প্রতিদান,
নিজ গুণে বাড়ালে বাংলার মান।”
—তা যেন গোটা বাংলার লোকশিল্প সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। এই গান বাংলার মানবিক মুখ্যমন্ত্রীকে উৎসর্গীকৃত, যাঁর দূরদর্শী ভাবনায় সুরক্ষিত হয়েছে গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি।
আরও পড়ুনঃ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনতাই! গুরুতর আহত ব্যবসায়ী
লোকপ্রসার— শিল্পী সমাজের রক্ষাকবচ
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনোযোগ দেন। লোকশিল্পীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাবনা এই লোকপ্রসার প্রকল্প, যা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে কার্যকর (Lok Prasar Project)।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তিন স্তরে বিভক্ত–
অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা– গ্রামীণ লোকশিল্পীদের জন্য নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা।
বিলুপ্তপ্রায় লোকধারার পুনরুজ্জীবন– হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পগুলিকে বাঁচিয়ে তোলা ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা।
প্রশাসনিক বার্তা প্রচার– লোকশিল্পীদের মাধ্যমে সরকারি সচেতনতামূলক বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে, এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষাধিক লোকশিল্পী রাজ্য সরকারের খাতায় নিবন্ধিত।
সুনিশ্চিত জীবন ও সামাজিক মর্যাদা
এই প্রকল্পের মাধ্যমে লোকশিল্পীদের জীবনে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। একসময় বাম জমানায় যাঁদের ‘চাল ছিল না, চুলোও ছিল না’, আজ তাঁরা মাসিক ভাতা, বিমা এবং নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
করোনা অতিমারীর কঠিন সময়ে, যখন মঞ্চ বা বায়না প্রায় বন্ধ ছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো এই লোকপ্রসার প্রকল্পের টাকাই হাজার হাজার শিল্পীর জীবনকে নিশ্চিত করেছে, তাঁদের পাশে থাকার মানবিক বার্তা দিয়েছে (Lok Prasar Project)।
সংস্কৃতি ও প্রশাসনের মেলবন্ধন
লোকপ্রসার প্রকল্পের একটি অন্যতম যুগান্তকারী দিক হল লোকশিল্পকে প্রশাসনিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজ সাথী’, ‘স্বচ্ছ বাংলা’, ‘দুয়ারে সরকার’— প্রভৃতি জনমুখী প্রকল্পের সাফল্য লাভে এই লোকশিল্পীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা গান, নাট্য ও কথাগানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন, যা একাধারে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক জাগরণের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
বীরভূমের বাউল, পুরুলিয়ার ছৌ-নাচ, বাঁকুড়ার ঝুমুর বা মেদিনীপুরের পটচিত্র— বহু প্রাচীন লোকধারা আজ নতুন জীবন পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে কবি, চিত্রশিল্পী ও সঙ্গীতপ্রেমী। তাঁর এই সংস্কৃতিমনস্কতাই লোকশিল্পীদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা জুগিয়েছে। প্রশাসনিক মঞ্চে তিনি তাঁদের নিয়মিত অংশগ্রহণ ও সম্মাননা নিশ্চিত করে লোকশিল্পকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এক সামাজিক আন্দোলনের অংশে পরিণত করেছেন (Lok Prasar Project)।
Truth of bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/
বাংলার পথে লোকগানের সুর
আজ বাংলার যে কোনও পথ ধরে এগোলে দেখা যায় লোকগানের সুর মিশে আছে মাটির স্বরের সঙ্গে। সামগ্রিকভাবে লোকসঙ্গীত শোনার আগ্রহ বেড়েছে শ্রোতাদের মধ্যে। রাজ্য সরকার আয়োজিত ‘লোকশিল্প মেলা’ বা ‘লোক সংস্কৃতি উৎসব’-এ লোকশিল্পীরা তাঁদের সৃষ্টিশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের মঞ্চ ও অনুষ্ঠান বাড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই যুগান্তকারী ভাবনাগুলি শুধু লোকশিল্পীদের জীবন সুরক্ষিত করেনি, বরং সামাজিকভাবে তাঁদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে সমাজতন্ত্র গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার পথে হেঁটেছে। ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অবিরাম পথ চলার এই অঙ্গীকারই বাংলার সংস্কৃতি ও উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
বাংলার লোকসুর ও পটচিত্র আজ যেন একই সাথে উচ্চারণ করছে— “সংস্কৃতি বাঁচলে, বাঁচবে সমাজ।” লোকপ্রসার প্রকল্প তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি বাংলার আত্মপরিচয়ের পুনর্নির্মাণ।
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনকে নিশ্চিত এবং সুরক্ষিত করে চলেছেন অবিরাম ভাবে (Lok Prasar Project)।
তুমি চলছো চলছো চলছো
মানুষকে সাথে নিয়ে চলছো
চলছো অবিরাম।
কুৎসা রটানো যাদের কাম
যারা বাংলার রাম আর বাম….






