‘আনসেফ’ নামি সংস্থার বিস্কুট, নিষেধাজ্ঞা ক্রিম রোলেও, কি জানাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর?
Biscuits of the company called 'Unsafe', ban on cream rolls, what does the Food Safety Department say?
Truth Of Bengal: Saif Khan: বিখ্যাত একটি কোম্পানির ‘মারি প্লাস’ বিস্কুট খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, কারণ পরীক্ষায় এটি ‘আনসেফ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় বেকারির ক্রিমরোল বিস্কুট খাওয়াও নিরাপদ নয়, জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। একইভাবে, অন্য রাজ্যের একটি সংস্থার তৈরি ‘ফ্রজেন ডিজার্ট উইথ বিস্কুট কোন’ পরীক্ষায় অনিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। যার ফলে, পূর্ব বর্ধমানের ডেপুটি সিএমওএইচ-২, খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক সুবর্ণ গোস্বামী বুধবার এই তিনটি খাদ্য পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট দোকানদার ও উৎপাদক সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের অবহিত করেছে। মারি প্লাস বিস্কুট এবং ক্রিমরোলের নমুনা প্রায় ছয় মাস আগে সংগ্রহ করা হলেও, এখন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে বিস্কুটের ম্যাচ নম্বর ও লট নম্বর নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তা ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেগুলি খেয়ে ফেলেছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্র অনুসারে, বর্ধমানের উল্লাস এলাকার একটি রিটেল সংস্থা থেকে এক নামকরা কোম্পানির ‘মারি প্লাস’ বিস্কুটের ২৩২ গ্রামের প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়েছিল বর্ধমান-২ ব্লকের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকের দ্বারা। গত ২০ মার্চ এই নমুনা সংগ্রহিত হয়েছিল, যার ব্যাচ নম্বর এম১২বি ও লট নম্বর সি১৫, উৎপাদনের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩। পরীক্ষা করার পর, এই নমুনাটি খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয় বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষিতে, জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক রিটেল এবং উৎপাদক সংস্থাকে চিঠি দিয়ে ওই ব্যাচ ও লট নম্বরের বিস্কুটের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
১ আগস্ট বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরের হরিনারায়ণপুরে ঈশিকা ট্রেডার্স নামক এক দোকান থেকে ‘মিডিয়াম ফ্যাট ফ্রোজেন ডিজার্ট উইথ বিস্কুট কোন’ পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার ব্যাচ নম্বর বা উৎপাদন তারিখ উল্লেখ নেই। বর্ধমান-১ ব্লকের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকের পরীক্ষায় তা ‘আনসেফ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ওই দোকানদার এবং উত্তর প্রদেশের উৎপাদক সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, কালনা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক ২০ মার্চ এক বেকারি থেকে ক্রিমরোলের নমুনা সংগ্রহ করেন, যার ব্যাচ নম্বর বা উৎপাদন তারিখ নেই এবং সেই নমুনার পরীক্ষাতেও ‘আনসেফ’ ফলাফল এসেছে।
সম্প্রতি, জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক এবং ডেপুটি সিএমওএইচ-২, সুবর্ণ গোস্বামী বেকারির মালিক কৃষ্ণচন্দ্র পালকে চিঠি পাঠিয়ে ক্রিমরোলের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করতে বলেছেন। এর আগে, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে খাদ্য সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছিল এবং একটি সংস্থার বিশেষ ব্যাচের দুগ্ধজাত সামগ্রীর বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। গত ২০ জুলাই, শক্তিগড়ের বিভিন্ন ল্যাংচার দোকানে অভিযান চালিয়ে পচা ল্যাংচা বাজেয়াপ্ত এবং ছত্রাক ধরা ল্যাংচা মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছিল।






