কেন ইরান এই বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলের উপর , জানেন কী ? কি রয়েছে নেপথ্যে কারণ ?
Do you know why Iran is carrying out this devastating attack on Israel? What is the reason behind?

The Truth Of Bengal : আবার বিশ্বের আকাশে যুদ্ধের মেঘ।শুরু হল ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ। প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে দুদেশ রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো তীব্র সংঘাতে জড়িয়েছে তাতে কবে এই যুদ্ধ থামবে ? শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশোনারি গার্ডস ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইজরায়েলের ওপর। এবিষয়ে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে ঘনঘন ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইজরায়েল মিসাইল হামলাও চলে। কিন্তু কিছু মিসাইল ও ড্রোন সিরিয়া ও জর্ডনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে নামানো হয়।
শুধু তা-ই নয়, আমেরিকা, ব্রিটেনের সেনাও গুলি করে ইরানের একের পর এক ড্রোন ধ্বংস করছে।দুই দেশের সামরিক বাহিনী একথা দাবি করেছে।রবিবার ২০০ওপর ড্রোন দিয়ে ইরান ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায় বলে আর্ন্তজাতিক মিডিয়া সূত্রে খবর। ইজ়রায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া সেই ড্রোন হামলায় ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক । জেরুজালেমে শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের সাইরেনের শব্দ। ইরানের হামলার খবর পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ইতিমধ্যে ফোনে কথা বলেছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।এরমধ্যে আবার আমেরিকার মতোই ফ্রান্সও ব্রিটেন ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইরানের প্রতি সমর্থন রয়েছে হামাস সহ বেশ কিছু গোষ্ঠীরও।এই অবস্থায় শান্তিও স্থিতাবস্থা বজায় থাকুক চায় রাষ্ট্রসংঘ। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।ইরান যাতে সংযত আচরণ করে সেজন্য কড়া বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
কেন ইরান এভাবে হামলা চালাল ?
গত ১২তারিখ দামাস্কাসে ইরানের কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা ঘটে।যারজন্য ইজরায়েলকে দায়ী করা হয়। যাতে ১২জনের মৃত্যু হয়।তারই বদলা নিয়ে এই হামলা বলে ইরানের দাবি।ইরান অবশ্য এই হামলা নিয়ে কোনও রা কাড়েনি। তাই ইজরায়েলকে ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ইরান হুঙ্কার দিয়েছে।ইরানের এই আগ্রাসী চেহারা দেখে আমেরিকা ও রাষ্ট্রসংঘ সংযত আচরণের বার্তা পাঠিয়েছি।কিন্তু ইরান দামাস্কাসে অহেতুক হামলার অভিযোগ করে আর পিছিয়ে আসতে নারাজ। বলা যায় গত ৬মাস ধরে গাজা স্ট্রিপে হামাস বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।গাজার দখল নিয়ে যখন এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হয় তখন ইরান হামাসকে সমর্থন দেয়। ইরান আর ইসলামিক জেহাদ গোষ্ঠীর যৌথ সমর্থনের ভিত্তিতে যে হামলার ব্লুপ্রিন্ট রচনা করা হয় তারজন ৭অক্টোবর ভয়ঙ্কর ফলাফল দেখা যায়।১২০০ লোকের মৃত্যু হয়।আরও প্রায় ২৫০জনকে অপহরণ করা হয়। বিধ্বংসী সেই সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়।এরপর ইজরায়েলের হামলায় মারা যায় ৩৩,০০০জন। ধ্বংসের চেহারা নেয় পুরো এলাকা। ইরান যেভাবে ইজরায়েলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে তাতে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।এই অবস্থায় একাধিক দেশ ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আমেরিকা-ব্রিটেনের মতোই কানাডা, ফ্রান্স-জার্মানি একযোগে ইরানের হামলার নিন্দায় মুখর। ব্রিটেন জানিয়েছে,যুদ্ধ থামাতে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ও ট্যাঙ্কারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এমনকি আরও বেশি ট্যাঙ্কার তেল ভরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর তত্পরতাও জারি আছে। এদিকে,ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য প্রয়াস নিয়েছে।নেভাটিন,ডিমোনা,ইলাটের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য আবেদন করেছে ইজরায়েল। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইরেন শুনলে বা আকাশে যুদ্ধের হুঙ্কার চাক্ষুষ করলেই ঘরের ভিতরে বা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে। ইরান যুদ্ধের হুঙ্কার দেওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।কিভাবে এই যুদ্ধে ইতি পড়বে তাই নিয়ে নানা মহলে চর্চাও চলছে জোরদার।






