অর্ণবের পর এবার ‘মুরাসু’, বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া।
Truth of Bengal: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন (IMD)। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘মুরাসু’। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
IMD জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে ‘মুরাসু’ চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় হবে। নতুন এই ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় মুরাসুর তীব্রতা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়েছিল অর্ণব। সেই সময় স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার।
আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ওড়িশায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র পরিস্থিতিও উত্তাল থেকে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিম-মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। তবে কলকাতা-সহ কয়েকটি এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দুর্বল হয়ে যাওয়া অংশ বর্তমানে উত্তর ছত্তিশগড় ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর নিম্নচাপ অঞ্চল হিসেবে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে নতুন নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পড়ার কোনও ইঙ্গিত নেই।
১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।






