রাজ্যের খবর

“বয়স ৭৫ ছুলো, এবার বিশ্রাম নেওয়াই ভাল!”, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে সোজা অবসরের নিদান শুভেন্দুর!

নন্দীগ্রাম আসন কেন ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী? বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোলসা করলেন শুভেন্দু অধিকারী!

Truth of Bengal: বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে নাম না করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তোলপাড় ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে সোজা বিশ্রাম নেওয়ার খোলামেলা পরামর্শ দিলেন তিনি। ছাব্বিশের মেগা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের জয়ী আসন কেন তিনি ছেড়ে দিলে, সেই প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতার বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে এনে কড়া খোঁচা শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “এই বয়সে আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভাল। বয়স তো প্রায় ৭৫ ছুঁতে চলল, এখন তাঁর রাজনীতি ছেড়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময়।”

বুধবার রাজ্য বিধানসভায় সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচনে জিতে আসা দুই বিজেপি বিধায়ক, নন্দীগ্রামের হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস দুই নবনির্বাচিত সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। সেই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্বাচিত বিধায়কদের শুভেচ্ছা জানানোর পর ভাষণ দিতে উঠে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার কারণ বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুটি ঐতিহাসিক আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিয়মমাফিক একটি আসন ছাড়ার প্রয়োজন তৈরি হলে তিনি কেন নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর নিজের কাছে রাখলেন, তার পেছনের রাজনৈতিক কৌশল ফাঁস করেন। শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ আমায় ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আমি তাঁদের বুঝিয়েছিলাম, আমি যদি ভবানীপুর ছেড়ে দিই, তবে যিনি ইতিপূর্বে আমার কাছে পরপর দু’বার পরাজয় স্বীকার করেছেন, তিনি আবার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন!”

এরপরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা বানিয়ে শুভেন্দু যোগ করেন, “যাঁকে আমি হারালুম, তাঁর বয়স এখন প্রায় ৭৫ বছর। এই বয়সে এসে বার বার হারার পর ফের ভোটে না দাঁড়ানোই শ্রেয়। এখন তাঁর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে ঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।” উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ছাড়ার পর সেখানে উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিট পান দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হওয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। তিনি ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বিধানসভার নতুন দুই সতীর্থকে স্বাগত জানানোর সঙ্গেই মমতার রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঁচাছোলা আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতিকে তীব্রভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Related Articles