জোড়াফুল প্রতীক কার? সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছলো ফয়সালা! ঋত তৃণমূলকে আরও ১০ দিন সময়
স্ট্যাম্প পেপার মেলেনি পুজোয়! ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় পেয়ে বড় স্বস্তি পেল গণতান্ত্রিক তৃণমূল?
Truth of Bengal: মাস ঘুরলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় বাজতে চলেছে নির্বাচনের বাদ্যি। কিন্তু আসল তৃণমূল কংগ্রেস দল এবং প্রতীক কার, তা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে এখনও মামলা চূড়ান্ত মীমাংসার অপেক্ষায়। সোমবার আদালতের বেঁধে দেওয়া নথি জমা দেওয়ার ‘ডেডলাইন’ থাকলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (ঋত তৃণমূল) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নথিপত্র পেশের জন্য আরও কিছু দিন অতিরিক্ত সময় চেয়েছে তাঁদের আইনজীবী। সেই আর্জি মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত দু’পক্ষকেই নতুন করে হলফনামা ও পাল্টা জবাব পেশের জন্য মোট ২০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই আদালতে তাদের নথিপত্র জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অভাবনীয় ফলাফলের পরপরই জোড়াফুল শিবিরে বড় ভাঙন ধরে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল দু’টুকরো হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ৬ অক্টোবর দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন অস্থায়ী সমাধান হিসেবে কালীঘাট শিবিরকে (সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস) ‘ফুটবলার’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে। তবে মূল প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ কাদের ঝুলিতে যাবে, সেই আইনি লড়াই গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এদিন শুনানিতে ঋত শিবিরের আইনজীবী পুজো ছুটির কারণে স্ট্যাম্প পেপার না পাওয়ার যুক্তি জানিয়ে আদালতের কাছে দুই সপ্তাহ সময় চান। কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এতে তীব্র আপত্তি জানালেও, বিচারপতিরা ঋত শিবিরকে ১০ দিন এবং তার প্রেক্ষিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের জবাব দেওয়ার জন্য আরও ১০ দিনের সময় মঞ্জুর করেন।
এরই মাঝে এদিনের শুনানির আবহেই কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে নথিপত্র চুরির এক অত্যন্ত গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, ২৫ অক্টোবর রাতে কালীঘাট শিবির চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের নথিপত্র দিল্লিতে পাঠালেও, তাঁর দলের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর সড়কপথে ট্রাকে করে মূল নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানার সীমানায় সেই ট্রাক আটকে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় কালীঘাট শিবিরের অনুগামীরা, যদিও তাঁর কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর শাসক ও বিরোধী, দুই শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। পুরভোটের ঠিক মুখেই জোড়াফুল প্রতীকের এই লড়াই এবং তার জল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বঙ্গ রাজনীতির ভবিষ্যৎ।






